
দেশের শীর্ষ আসনে বসেও বাংলার মসনদ অধরাই থেকে গেল বিজেপির। কিন্তু খরচ কম করেনি বিশ্বের সর্ববৃহত্ দলটি। দিল্লি-বাংলা যাতায়াতেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছেন মোদি-শাহরা। শুধু তাই নয়, গোটা ভোটপর্বের জন্য শুধুমাত্র এই রাজ্যেই ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে বিজেপি। রবিবার ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন গায়ক তথা তৃণমূলপন্থী হিসাবে পরিচিত নচিকেতা।
‘ওয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমোরো।’ চিরাচরিত এই কথা হয়তো ভুল প্রমাণ হতে পারে ২০২১ নির্বাচনের ফলাফলে। কারণ বাঙালিদের অহঙ্কারের জায়গাটা একটা সময় পর্যন্ত ছিল। তবে ইদানীং নিজেদের বাঙালি ভাবতে লজ্জা পাচ্ছিলেন অনেকে।
অনেকেই আন্দাজ করেছিলেন, যে হারে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ রাজ্যে ধরনা দিয়ে পড়েছিলেন। প্রায় প্রতিদিনই প্রচার সভা, রোড শো করে বেরিয়েছেন তাঁরা। স্বয়ং নচিকেতাও হয়তো একবার ভেবে নিয়েছিলেন, দেশ কব্জা করা দলটি এবার বাংলার সংস্কৃতি নিয়েও ‘ছেলেখেলা’ শুরু করবে। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূলের জয়জয়কারের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও জয় পেয়েছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ফলাফলে উদ্বেগ কেটে গিয়েছে শিল্পীর। বললেন, ‘আজ বাঙালির জয়ের দিন। বাঙালির আত্মশ্লাঘার দিন। বাঙালি জিতিয়া প্রমাণ করিল, বাঙালিই শ্রেষ্ঠ জাতি।’
এদিন নচিকেতা বলেন, ‘শুনেছি দিল্লির নেতারা বাংলায় যাতায়াতের জন্যই ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছেন। গোটা ভোটপর্বের জন্য খরচ শুনেছিলাম প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা! এই টাকা দিয়ে বাঙালিকে কেনা যায় না। দু’চারটে গাধা কেনা যায় হয়তো। কারণ, শয়তান তো চিরকাল শয়তানই থাকে। ও সব গুনতিতে আসবে না।’ তিনি এদিন নিজের উদ্বেগের কথাও বলেন।
দাবি করেন, অনেকেই বলেছিল এবার না কি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে পাততাড়ি গুটিয়ে নিতে হবে। কিন্তু বাঙালি দেখাল, তাঁরা বিক্রি হন না। স্রেফ আবেগ আর জেদ জিতিয়ে দিল বাঙালিকে। একটা মহিলা শুধুমাত্র সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কথা বলেছিলেন। বাঙালি সেই প্রস্তাবটাই বেছে নিল। ২০০৪ সালে লেখা ‘তুমি আসবে বলে’ নচিকেতার বিখ্যাত গানের কথা টেনেই এদিন বললেন, ‘সত্যিই বাংলাটা এখনও গুজরাত হয়ে যায়নি’।
সূত্র : এই মুহুর্তে



