
রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সরকারের প্রশাসন ভুয়ো খবর আর ভুয়ো পোষ্টের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে। গত ২ মে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার বাতাবরণ বেড়েছিল। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার দিনেই জানিয়ে দেন, তার প্রথম দুটি কাজ হবে রাজ্যের করোনা সংক্রমণ মোকাবিলা করা এবং রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করা।
সেই মতোই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো খবর আর ভুয়ো পোষ্টের বিরুদ্ধে নেমেছে মমতা প্রশাসন। রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ৫৫০ টি ভুয়ো পোষ্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যার বেশিরভাগই নির্বাচন পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত। রাজ্য পুলিশের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক, ট্যুইটার এবং ইনষ্টাগ্রামের তরফে ১৫০ টি পোষ্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ৫০ টি পোষ্ট নিয়ে ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এইসব ভুয়ো পোষ্টের পিছনে রয়েছে বিজেপি এবং তাদের শাখা সংগঠনগুলি। রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো পোষ্টের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে গত পাঁচ দিনে কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে অন্তত ৩৪ টি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, এই সমস্ত পোষ্টগুলির মধ্যে সম্প্রদায়গত সংবেদনশীল বেশ কিছু পোষ্ট ছিল। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপির আইটি সেল ভুয়ো খবর পোষ্ট করছে।
কেন তারা এই শোচনীয় হার মেনে নিতে পারছে না। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যে গত ১০ এপ্রিল কোচবিহারের শীতলকুচি ছাড়া আর কোথাও গণহত্যার ঘটনা ঘটেনি। ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এবং অগ্নিমিত্রা পলের নামে এফআইআর দায়ের করেছে।
যদিও এই ঘটনায় বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, এটা দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল মাত্র। অন্যদিকে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উচিত তার ক্যাডারদের সামলানো আর প্রশাসনের উচিত হিংসার ঘটনার ব্যাবস্থা নেওয়া।
সূত্র : প্রথম কলকাতা



