
শুক্রবার রাতে হঠাৎই নবান্নকে চিঠি দিয়ে মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে বদলির নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। দিল্লির সেই চিঠি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, বাংলায় ভোটে গো হারা হেরে বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। তাই রোজ রোজ তাঁকে অপমান করা হচ্ছে। আগে তাঁকে বিরক্ত করা হত। এখন মুখ্য সচিবকে বিরক্ত করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর গত ৭৪ বছরে কেউ এরকম দেখেছে? এটা অসাংবিধানিক, বেআইনি এবং এক তরফা পদক্ষেপ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ওদের বলব, এই প্রতিহিংসা বন্ধ করুন। মুখ্য সচিবকে বদলির চিঠি প্রত্যাহার করুন”।
মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, এ তো আপনি আবেদন জানালেন। কিন্তু কেন্দ্রকে কি কোনও চিঠি দেবেন? রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করবে?
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম, এটা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য কথা বলে বিষয়টা স্থির করবে। কিন্তু আমরা শুনলাম যে ওরা কোর্টে এবং সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে ক্যাভিয়েট করে রেখেছে। মানে ওরা আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমরা প্রথমে আবেদন করলাম। বলতে চাইলাম যে, আমাকে যা ইচ্ছা অপমান করুন, আমার অফিসারদের অপদস্ত করা বন্ধ করুন। আমরা চাইছি, এ ব্যাপারটা রাজনীতি দূষিত না করে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হোক। দেখা যাক, ওনারা কী করেন।”
মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ব্যাপারটা আমার এত খারাপ লাগছে কী বলব! একটা ছেলে সারা জীবন এত কাজ করেছে, যাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই, সততার সঙ্গে কাজ করেছে, তাঁর সঙ্গে এরকম করা হচ্ছে। এক সময়ে সাংবাদিক ছিলেন, বড় পরিবারের ছেলে, ওঁর স্ত্রী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ২৪ ঘণ্টা কাজ ছাড়া ও কিছু জানে না। সকাল ৭ টায় ফোন করলে ফোন ধরে, রাত ১২ টায় ফোন করলে ফোন ধরে।”
সাংবাদিক সম্মেলনে এর আগে মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেন, মুখ্য সচিবের কোনও ত্রুটি নেই। সরকারি কমিশন ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী মুখ্য সচিব কেন্দ্রের ক্যাডার হলেও রাজ্য সরকারের কর্মী। মুখ্যমন্ত্রী কোথাও গেলে মুখ্য সচিব সেখানে যাবেন সেটাই স্বাভাবিক।
পরে কেন্দ্রের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা কেবল বাংলার মুখ্য সচিবকে অপমান করেছে তা নয়, দেশের প্রতিটি রাজ্যের মুখ্য সচিবকে অপমান করেছে। তাঁরা কি এটা ভালভাবে নিচ্ছেন? মনে রাখবেন, আইএএস-দের লবি রয়েছে, আইপিএস-দেরও লবি রয়েছে। তাঁরা চুপ করে থাকবেন না।
সূত্র: দ্য ওয়াল



