অর্থনীতিজাতীয়

৮০ ডলারের নীচে নামল ক্রুড অয়েল! এবার কি সস্তা হবে পেট্রোল-ডিজেল? আমজনতার জন্য বড় আপডেট

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Crude Oil Price Fall: ৮০ ডলারের নীচে নামল ক্রুড অয়েল! এবার কি সস্তা হবে পেট্রোল-ডিজেল? আমজনতার জন্য বড় আপডেট - West Bengal News 24

Petrol-Diesel Price Today: বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামে বিরাট পতন! আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একধাক্কায় অনেকটাই কমে ৮০ ডলারের নীচে নেমে এসেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের পরেই বিশ্ব বাজারে তেলের গ্রাফ হু হু করে নামতে শুরু করেছে। এই খবর সামনে আসতেই ভারতের আমজনতার মনে একটাই প্রশ্ন— তবে কি এবার দেশেও কমতে চলেছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম? পকেটে কি কিছুটা স্বস্তি মিলবে মধ্যবিত্তের? কী বলছে খতিয়ান? জেনে নিন আসল সত্যিটা।

যুদ্ধ থামতেই ম্যাজিক! রেকর্ড পতন আন্তর্জাতিক বাজারে

ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল ভারতের বাজারেও। এক সময়ে বিশ্ব বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হতেই হাতেনাতে ফল মিলল।

আরও পড়ুন :: ২১ জুলাইয়ের আগেই মমতাকে বিরাট ধাক্কার ছক? সব বিদ্রোহী এক ছাতায় আনার ইঙ্গিত সুদীপের!

আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামে ৫.৪ শতাংশ পতন লক্ষ্য করা গেছে। যার ফলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম নেমে দাঁড়িয়েছে ৭৮.৬৬ ডলারে। গত মার্চের পর ক্রুড অয়েলের দামে এটাই সবচেয়ে বড় পতন। সহজ কথায়, যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম যে স্তরে ছিল, বাজার আবার সেই পরিস্থিতিতেই ফিরে যাচ্ছে।

বিশ্ব বাজারে দাম কমলেও ভারতে কেন কমছে না পেট্রোল-ডিজেল?

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য এখনই কোনও সুখবর নেই। সূত্রের খবর, আপাতত দেশে পেট্রোল বা ডিজেলের দাম কমার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু কেন? এর পেছনে রয়েছে দুটি বড় কারণ:

১. অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির বিপুল আর্থিক ক্ষতি

যুদ্ধের সময় যখন বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া ছিল, তখন ভারতের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি (OMCs) সাধারণ মানুষের কথা ভেবে একধাক্কায় দাম খুব বেশি বাড়ায়নি। এর ফলে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলিকে বিরাট লোকসান সহ্য করতে হয়েছে।

  • বর্তমানে এই সংস্থাগুলি প্রায় ১৫, হাজার কোটি টাকার ক্ষতির বোঝা বইছে।

  • ক্রুড অয়েলের দাম কমায় সংস্থাগুলি এখন প্রথমে তাদের এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করবে। রাতারাতি সেই ক্ষতি সামলানো সম্ভব নয়।

২. সরকারের রাজকোষের ওপর চাপ

শুধু তেল সংস্থাগুলিই নয়, বিগত দিনে জ্বালানির জ্বালা থেকে জনগণকে বাঁচাতে কেন্দ্র সরকারও বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর থেকে আবগারি শুল্ক (Excise Duty) লিটার প্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছিল সরকার। এর ফলে সরকারের রাজস্বেও বড় ধাক্কা লাগে। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায়, সরকারও প্রথমে নিজেদের আর্থিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।

তবে কি আগামী দিনে দাম কমার কোনও আশাই নেই?

আশা এখনই একবারে শেষ হয়ে যায়নি। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন দেখার বিষয় হলো বিশ্ব বাজারে ক্রুড অয়েলের এই নিম্নমুখী ট্রেন্ড কতদিন বজায় থাকে।

যদি আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম এইভাবেই ৮০ ডলারের নীচে বা তার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে, তবেই তেল সংস্থাগুলি লাভের মুখ দেখবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে এবং ক্ষতিপূরণ মিটে গেলে, আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকার ও তেল সংস্থাগুলি সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমানোর কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে পারে।

তাই আপাতত জ্বালানির দাম কমার জন্য দেশবাসীকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button