
মালদায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হাতে চিনা গুপ্তচরকে শনিবার জেলা আদালতে পেশ করা হয়। হরিয়ানায় তার একটি হোটেল আছে, উত্তরপ্রদেশে বিভিন্ন প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সে। আর তাই উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাস দমন শাখা, মালদা জেলা পুলিশ সহ একাধিক এজেন্সি শুক্রবার দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই চিনা নাগরিককে। এরপর কালিয়াচক থানার পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পুলিশ সূত্রে খবর, দু-একদিনের মধ্যে ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিতে পারে উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাস দমন শাখা। এদিন আদালতে সেই আবেদনও করা হয়। তবে বিচারক ধৃতকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, এওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হবে। তার কাছ থেকে বাংলাদেশি সিম ভারতীয় সিম, চিনা সিম-সহ বেশ কিছু ডিভাইস উদ্ধার হয়। ধৃতের বাড়ি চিনের হুবেই প্রদেশে। তার কাছ থেকে একটি চিনা পাসপোর্ট ও বাংলাদেশি ভিসা পাওয়া গিয়েছে। পাওয়া গিয়েছে একটি ল্যাপটপ ও ক্যামেরা। চিনা অনুপ্রবেশকারী নাম হান জুনওয়ের, বয়স ৩৬ বছর। গত দুই বছরে ভারত থেকে চিনে পাচার করেছেন ১৩০০ সিম কার্ড। জেরার মুখে স্বীকার করলেন কালিয়াচকে ধৃত চিনা নাগরিক। অন্তর্বাসে লুকিয়ে সেগুলি নিয়ে যাওয়া হত। পরে প্রচারণার কাজে সিমগুলিকে ব্যবহার করা হত।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে ০২ জুন, ২০২১ এ ব্যবসায়িক ভিসায় ঢাকা , বাংলাদেশে পৌঁছেছিলো এবং সেখানে একজন চিনা বন্ধুর সাথে থেকেছে। তারপরে ০৮ জুন, বাংলাদেশের সোনা মসজিদ সীমান্ত এলাকায় আসে। এটি বাংলদেশের রাজশাহীর অন্তর্গত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সেখানে একটি হোটেলে ছিল ওই চিনা নাগরিক।
১০ জুন যখন সে ভারতীয় সীমান্তের ভিতরে প্রবেশ করছিল। তখন তাকে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা ধরে ফেলে। জেরায় ওই চিনা গুপ্তচর আরও জানায়, এর আগেও চারবার ভারতে এসেছিল। ২০১০ সালে হায়দরাবাদ এবং ২০১৯ সালের পরে তিনবার দিল্লি গুরুগ্রামে এসেছিল। তার কথা মতো গুরুগ্রামে তার একটি হোটেল রয়েছে যার নাম “স্টার স্প্রিং”। এই হোটেলে তাঁর কয়েকজন বন্ধু আছে যারা চিন থেকে এসেছে। বাকি ভারতীয়দের চাকরি দিয়ে রাখা হয়েছে।
সূত্র: এই মুহুর্তে



