
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপটে নাজেহাল গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে আবার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সোয়াইন ফ্লু। ইতিমধ্য়েই শহরের বেশ কয়েকজন এই ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে শহরের দুটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনজন।
জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথার মতো করোনার সব উপসর্গই থাকছে শরীরে। এর ফলে অনেকেই ভাবছেন হয়তো করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু, পরীক্ষা করার পরই রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে। এরপর রোগীর ম্যালেরিয়া হয়েছে বলেও বহু চিকিত্সক পরীক্ষা করাতে দিচ্ছেন। তবে সেই রিপোর্টও নেগেটিভ আসছে। আসলে দেখা যাচ্ছে রোগী সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত। করোনার বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই বর্ষা শুরু হতে না হতেই কলকাতায় হানা দিয়েছে সোয়াইন ফ্লু। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিত্সকরা।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, কলকাতায় এখনও পর্যন্ত ১৯জন সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন খিদিরপুর মেটিয়াবুরুজ এলাকার বাসিন্দা, তিনজন বেহালার, দু’জন গড়িয়াহাটের, দু’জন যাদবপুরের, তিনজন কসবার, তিনজন কাঁকুড়গাছির এবং দু’জন সল্টলেকের বাসিন্দা।
দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের গতি এখন নিম্নমুখী। কিন্তু, তার মধ্যেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছেন না দেশবাসী। কারণ শীঘ্রই দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে। যদিও এইমসের প্রধআন চিকিত্সক রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন, আর মাত্র ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে।
তার মধ্যেই এবার গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সোয়াইন ফ্লু। চিকিত্সকরা বলছেন, করোনার মতোই সোয়াইন ফ্লুতেও একই উপসর্গ দেখা যায়। ফলে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট যদি নেগেটিভ আসে তাহলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিন। কোনওভাবেই একে হালকাভাবে নেবেন না। আর সোয়াইন ফ্লু অত্যন্ত ছোঁয়াচে। হাঁচি, কাশির মাধ্যমেই এই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মাস্ক অবশ্যই পড়ুন। আর এই বৃষ্টির মধ্যে সাবধানে থাকতে খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে হাত ধুন। হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে স্যানিটাইজার লাগান।
সূত্র : এশিয়া নেট



