রাজনীতিরাজ্য

বিজেপি-র বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে চাইছেন না মমতা?

কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চলমান সংঘাতের আবহেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিল শিবসেনা। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী ঐক্যে কংগ্রেস নিয়ে কী মত তৃণমূলের, সেটাই স্পষ্ট করে জানতে চাইল মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের দল।

কংগ্রেসের তরফে ‘বিরোধী ঐক্যে’ তৃণমূলকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও জাতীয় রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠার কৌশল নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, সেখানে কংগ্রেসের অস্তিত্বকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল।

এমন পরিস্থিতিতে শিবসেনা শনিবার বলেছে, জাতীয় রাজনীতি থেকে কংগ্রেসকে দূরে রাখা এবং ইউপিএ ছাড়াই একটি বিরোধী জোট তৈরি করা ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং ‘ফ্যাসিবাদী’ শক্তিকে শক্তিশালী করার সমান।

ক’দিন আগেই মুম্বইয়ে এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করে মমতা জানিয়ে দেন, ইউপিএ-এর এখন আর কোনো অস্তিত্বই নেই। ওই মন্তব্যের ফলে মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের ব্যাপারে ফের একবার জল্পনা তৈরি হয়। কংগ্রেস সম্পর্কে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছিল মমতাকে।

সরাসরি সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের জবাব যেমন তিনি দেননি আবার এড়িয়েও যাননি। কিন্তু ইউপিএ-র অস্তিত্ব নিয়ে তাঁর মন্তব্য চর্চার রসদ জুগিয়েছে।

মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস এবং এনসিপির সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার চালাচ্ছে শিবসেনা। দলের মুখপত্র ‘সামনা’-র একটি সম্পাদকীয়তে শিবসেনা লিখেছে, যারা কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউপিএ চায় না, পিছনে কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পরিবর্তে তাদের নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে স্পষ্ট করা উচিত।

আরও পড়ুন: ‘‘ভোটদানে বাধা দিলে দল থেকে বহিস্কার’, হুঁশিয়ারি অভিষেকের

যারা বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তারা যদি মনে করে কংগ্রেসের অস্তিত্ব মুছে দেওয়া হবে, তা হলে সেটা সবচেয়ে বড়ো বিপদের কারণ। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকলে বিজেপি-রই লাভ। এটা বন্ধ করা উচিত।

মমতার সাম্প্রতিক মুম্বই সফর এবং তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’য় কংগ্রেসকে নিশানা করে ‘ডিপ ফ্রিজারে’ চলে গিয়েছে জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রেক্ষিতে এহেন মন্তব্য শিবসেনার। মুখপত্রে উদ্ধব ঠাকরের দল লিখেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুম্বই সফরের পর বিরোধী দলগুলি তত্‍পর হয়ে উঠেছে।

বিজেপি-র বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বিকল্প তৈরি করার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তবে কাকে সঙ্গে নেওয়া হবে আর কাকে এই জোট থেকে দূরে রাখা হবে, তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কিন্তু ঐকমত্য না থাকলে বিজেপি-র বিরুদ্ধে কেউ সফল হবে না। এখানে নেতৃত্ব একটি গৌণ বিষয়, একত্রিত হওয়ার বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত।

সামনা-য় লেখা হয়েছে, কংগ্রেসকে দমিয়ে রাখা যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি-র একটা অন্যতম অ্যাজেন্ডা, সেটা সবাই-ই জানেন। ফলে যারা মোদী এবং বিজেপি-র বিরুদ্ধে, তারাও যদি কংগ্রেসের ক্ষয় কামনা করে, সেটা মোটেই কাম্য নয়, উলটে সবচেয়ে বড়ো আশঙ্কার কারণ। এমনিতেই শেষ এক দশকে কংগ্রেসের পতন গভীর উদ্বেগজনক। সেই জায়গায়ে দেশের প্রাচীন দলকে আরও নীচে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকৃতঅর্থে বিপজ্জনক।

 

আরও পড়ুন ::

Back to top button