ঝাড়গ্রাম

লোকাল ট্রেন না চলায় সব্জি ব্যবসা বন্ধ, সংসার চালাতে গিয়ে করুণ পরিণতি বৃদ্ধার

স্বপ্নীল মজুমদার

ঝাড়গ্রাম: করোনা কালে টাটা-খড়্গপুর শাখায় লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব্জি ব্যবসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বিমলা মাহাতোর। বছর দু’য়েক ধরে প্রবল অর্থকষ্টে ছিলেন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পূর্ব সিংভূম জেলার চাকুলিয়া থানার দক্ষিণাশোল গ্রামের বাসিন্দা ওই বিধবা বৃদ্ধা।

সব্জি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে গাছ থেকে বেল পেড়ে স্থানীয় হাটে বিক্রি করতেন তিনি। সেই বেল পাড়তে গাছে চড়াই কাল হল বিমলার। বুধবার সকালে বাড়ির কাছে একটি বেলগাছে উঠেছিলেন বেল পাড়তে। পা হড়কে মগডাল থেকে মাটিতে পড়ে যান তিনি।

মাথায় গুরুতর আঘাত পান বিমলা। দু’টি পায়ের হাড়ও ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে স্বজন-পড়শিরা চাকুলিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে উন্নত চিকিৎসার পরিষেবা না থাকায় বিমলাকে এ রাজ্যের ঝাড়গ্রাম জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। কিন্তু ঝাড়গ্রামে ভর্তি করানোর ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম পুলিশ মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। বিমলার ছেলে বলরাম মাহাতো বলেন, ‘‘আগে যখন লোকাল ট্রেন চলত, তখন মা প্রতিদিন ভোরে চাকুলিয়া থেকে ট্রেনে ঝাড়গ্রামে এসে সব্জি কিনে ফের লোকাল ট্রেন ধরে টাটায় গিয়ে চড়াদামে বিক্রি করতেন। ভালই লাভ হত। সংসারে তখন অভাব ছিল না।

কিন্তু ২০২০ সালের মার্চ থেকে টাটা-খড়্গপুর শাখায় লোকাল ট্রেন বন্ধ। তাই মায়ের সব্জি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এই দু’বছর বেল বিক্রি করেই মা সংসার চালাতেন। সেই বেল পাড়াই কাল হল মায়ের!’’ সাতমাস আগে বিমলার স্বামী নিরঞ্জন মাহাতোর বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মৃত্যু হয়েছে। রেল পরিষেবা সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্ব বলছেন, ‘‘লোকাল ট্রে‌ন চললে হয়ত বিমলার এমন পরিণতি হত না।’’

আরও পড়ুন ::

Back to top button