পহেলগাঁও হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের অস্থায়ী সদস্যদের ফোন জয়শংকরের, বার্তা কড়া প্রতিশোধের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হানার পর রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিশোধ নিতে দিল্লি কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে মোদী সরকার। একের পর এক বৈঠকে চলছে কৌশল নির্ধারণ। সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালানোর জবাবে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টার পরও ভারত এখনও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করতে পারেনি। বর্তমানে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছে আলজেরিয়া, গ্রীস, গায়ানা, পানামা, সিয়েরা লিওন, স্লোভেনিয়া এবং সোমালিয়া। সূত্র অনুযায়ী, বুধবার জয়শংকর এই দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি তাঁদের জানান, ‘পহেলগাঁওয়ের হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে ভারত অটল।’ কূটনৈতিক মহলের মতে, এই আলোচনার তাৎপর্য অনেক, বিশেষ করে যখন ২০২৫-২৬ মেয়াদে পাকিস্তানও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য।
কাশ্মীর ইস্যুতে আগেও বারবার ভারতকে আন্তর্জাতিক মহলে বিপাকে ফেলতে চেয়েছে ইসলামাবাদ, তবে সেভাবে কোনও সাফল্য মেলেনি। পহেলগাঁও হামলার ঘটনায় পাকিস্তান প্রথম থেকেই জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সেনার পোশাকে সন্ত্রাসবাদীরা ধর্মীয় পরিচয় জেনে পর্যটক ও স্থানীয়দের হত্যা করে। ওই হামলায় প্রাণ হারান ২৫ জন পর্যটক এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। প্রথমদিকে হামলার দায় স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করে লস্কর-ই-তইবার ঘনিষ্ঠ সংগঠন টিআরএফ। অভিযোগ রয়েছে, কাশ্মীর উপত্যকায় এই সংগঠনের পেছনে রয়েছে পাকিস্তানি সেনা ও আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদত।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ সম্প্রতি স্বীকার করে বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে অর্থ ও মদত দেওয়ার মতো ঘৃণ্য কাজ গত তিন দশক ধরে করে এসেছি আমরা। এই কাজ পাকিস্তান করেছে, আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ পশ্চিমের দেশগুলোর জন্য। এটা আমাদের ভুল ছিল। যার ফল আমাদের ভুগতে হচ্ছে।” ভারতের তরফ থেকে এই বক্তব্যকেই সামনে এনে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।



