‘বাংলার নিজের মেয়ে’ থেকে এবার ‘বাঘিনী’, ইডি অভিযানের পরই থিম সংয়ে আইপ্যাকের বার্তা ‘আবার জিতবে বাংলা’
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির অভিযানের মুখে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক। এই ঘটনা ঘিরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ইডির ‘চোখ রাঙানি’তে যে তৃণমূল বা আইপ্যাক ভয় পাচ্ছে না, তা যেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট করে দেওয়া হল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসকদল প্রকাশ করল নতুন থিম সং। সেখানে বাংলার ‘অগ্নিকন্যা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলে ধরা হয়েছে ‘বাঘিনী’ রূপে। তৃণমূলের ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করেই এই গান তৈরি হয়েছে। গানের প্রতিটি লাইনে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার বার্তা উঠে এসেছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাংলার নিজের মেয়ে’ হিসেবে তুলে ধরে তৈরি হয়েছিল থিম গান ‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’। এবারে সেই ঘরের মেয়েই হয়ে উঠছেন বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রক্ষক। অগ্নিকন্যার পরিচয় বদলে তিনি এবার ‘বাঘিনী’। প্রায় তিন মিনিটের এই গানের মূল ফোকাসে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বিভিন্ন সময়ের সভা, মিছিল ও কর্মসূচির ছোট ছোট মুহূর্তকে জুড়ে তৈরি হয়েছে এই থিম গানের ভিডিও।
সাম্প্রতিক সময়ে সমাজমাধ্যমে তৃণমূল সমর্থকদের একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘিনী’ বলে উল্লেখ করছেন। সেই সুরে ইতিমধ্যেই গলা মিলিয়েছেন কাশ্মীরের নেত্রী মেহবুবা মুফতিও। তিনি বলেন, “বর্তমানে গোটা দেশজুড়ে তল্লাশি চলছে। আগে এটা অবশ্য হয়নি। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর এখানে শুধুই তল্লাশি হত। তখন বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল চুপ করে ছিল। তিনজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছেন। সকলে মুখ বুজে সেসব দেখছিল। সংবাদপত্র খুললেই দিনে কমপক্ষে ২০-২৫টি তল্লাশির খবর দেখা যেত। এখন সেটাই বাংলায় হচ্ছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সাহসী। তিনি বাঘিনী। তিনি লড়াই করবেন। কখনওই আত্মসমর্পণ করবেন না।” এই ‘বাঘিনী’ ভাবমূর্তিই এবার নির্বাচনী থিম গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
আইপ্যাকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা কেবল একটি গান নয়, এটি আমাদের দৃঢ় রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রতিরোধের ডাক। এতে বাঙালির চিরাচরিত লড়াকু মেজাজকে তুলে ধরা হয়েছে।’ শুরু থেকেই তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি বহিরাগত শক্তি হিসেবে পরিকল্পিতভাবে বাংলার ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই গানের মাধ্যমে শাসকদল বোঝাতে চাইছে, ঘৃণা ও ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি সম্পর্কে বাংলা সম্পূর্ণ সচেতন।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের কাছে তৃণমূলের বিভিন্ন দাবির কথাও উঠে এসেছে এই গানে। বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা থেকে শুরু করে বাঙালি মনীষীদের অপমান, ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক, এসআইআর সবই জায়গা পেয়েছে গানের কথায়। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে এই থিম গান ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে গানটি প্রকাশ করে আইপ্যাক ও তৃণমূল বুঝিয়ে দিল, কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপের মুখেও তাদের রাজনৈতিক লড়াই থামছে না।



