জাতীয়

আইপ্যাক কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইডি, বৃহস্পতিবার শুনানি

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

আইপ্যাক কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইডি, বৃহস্পতিবার শুনানি - West Bengal News 24

আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলায় এবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হতে চলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আবেদনের ভিত্তিতে। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। তার আগে বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে বিষয়টি নিয়ে শুনানি হয়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে দীর্ঘ তর্কবিতর্কের পর আপাতত মামলাটি মুলতুবি রাখা হয়েছে। ফলে আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু এখন সুপ্রিম কোর্ট। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে, যাতে একতরফাভাবে কোনও নির্দেশ না দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু ফাইল সঙ্গে নিয়ে যান। পরে সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, ওই নথিগুলি দলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, যেখানে নির্বাচনী রণকৌশল সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। ইডি সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দলের স্বার্থেই তিনি ফাইলগুলি সঙ্গে নিয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইডি ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সংঘাত চরমে ওঠে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্রে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছিল এবং সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা-সহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকও মুখ্যমন্ত্রীকে এই কাজে সহায়তা করেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়—একটি ইডির পক্ষ থেকে এবং অন্যটি ইডির তিন আধিকারিক আলাদাভাবে দায়ের করেন। অভিযোগ করা হয়, তল্লাশি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের হাত থেকে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন। এই দুটি মামলাতেই সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে এবং শীর্ষ আদালত মামলাগুলি গ্রহণ করেছে।

অন্যদিকে, ইডি অভিযানের বৈধতা ও তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আগেই কলকাতা হাই কোর্টে দুটি মামলা হয়েছিল। একটি দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস, যেখানে নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ তোলা হয়। অপরদিকে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সেই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে ইডির আইনজীবী দাবি করেন, লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি কিংবা সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি এবং যা ছিল, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন। পালটা তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই দাবি যদি সত্য বলে রেকর্ডে উঠে আসে, তবে তারা মামলা প্রত্যাহার করতেও প্রস্তুত। তবে ইডির এই বক্তব্য লিখিতভাবে নথিভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে তৃণমূলের আইনজীবীর তরফে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button