জাতীয়

জনগণমনর সমতুল মর্যাদার পথে ‘বন্দে মাতরম’? অবমাননায় শাস্তির ভাবনা, কেন্দ্রের বড় উদ্যোগ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

জনগণমনর সমতুল মর্যাদার পথে ‘বন্দে মাতরম’? অবমাননায় শাস্তির ভাবনা, কেন্দ্রের বড় উদ্যোগ - West Bengal News 24

জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর মতোই সমান সম্মান পেতে পারে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram)। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই দেশাত্মবোধক গানকে আরও মর্যাদা দিতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে খতিয়ে দেখা হয়েছে, জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে যে আইনি বিধি ও নিয়ম রয়েছে, তা বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা যায় কি না।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি মাসেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আলোচনার মূল বিষয় ছিল সংবিধানে জাতীয় সঙ্গীতের জন্য নির্ধারিত সম্মানসূচক নির্দেশিকা বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা সম্ভব কি না। গানটি গাওয়ার সময়, স্থান ও পদ্ধতি নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন কিনা, তাও উঠে আসে আলোচনায়। পাশাপাশি, জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক এবং তা অমান্য করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। সেই ধরনের আইনি ব্যবস্থা বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, বন্দে মাতরম প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে। পরে ১৮৮২ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে স্থান পায় গানটি। ১৮৯৬ সালে এই গান গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ধীরে ধীরে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে বন্দে মাতরম। বর্তমানে এই গানের ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। এরই মধ্যে গানটি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

সংসদে বন্দে মাতরম প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে গানটির কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে দেশভাগের পরিস্থিতি তৈরি করে। যদিও কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির পালটা অভিযোগ এনেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই বন্দে মাতরমকে সামনে আনছে গেরুয়া শিবির। বিরোধীদের দাবি, রবীন্দ্রনাথের আবেগকে কিছুটা আড়ালে রেখে বঙ্কিমচন্দ্র, জাতীয়তাবাদ ও বাংলার আবেগকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি।

বর্তমানে সংবিধান জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি বন্দে মাতরমকেও স্বীকৃতি ও মর্যাদা দিয়েছে। তবে গানটি গাওয়া বা পাঠ করার ক্ষেত্রে আলাদা কোনও শিষ্টাচার বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার ঘটনায় মামলা হলেও, বন্দে মাতরম অবমাননায় সুনির্দিষ্ট শাস্তির নজির নেই। এবার সেই শূন্যস্থান পূরণের দিকেই এগোতে চাইছে মোদি সরকার।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য