
সাধারণত কোনও সরকারের প্রথম বা দ্বিতীয় বাজেটে বড় চমকের সম্ভাবনা কম থাকে। এই বাজেটগুলি মূলত সংস্কারনির্ভরই হয়, কারণ তখন ভোটের তেমন চাপ থাকে না। তবে ২০২৬ সালের বাজেটের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। কারণ বাজেটের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতে চলেছে। সেই কারণে সংস্কারের পাশাপাশি এবারের বাজেট জনমোহিনী হলে তা অস্বাভাবিক হবে না।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। পরিকাঠামো খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক বৃদ্ধির গতি বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে রাজকোষের ভারসাম্য রক্ষা সবকিছু সামলানোই বড় পরীক্ষা নির্মলা সীতারমন-এর জন্য। ২০২৬ সালের বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হতে পারে। রেলওয়ে, অবকাঠামো, নগর উন্নয়ন, উৎপাদন শিল্প, অটোমোবাইল, প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক্স, এমএসএমই, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই সব ক্ষেত্রই এবার বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
শিল্পমহলের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে পরিকাঠামো খাতই আর্থিক বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। সেই বৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে হলে পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করার প্রয়োজন হতে পারে। মার্কিন শুল্কচাপের আবহে রপ্তানি ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করা এবং দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোও অর্থমন্ত্রকের কাছে বড় অগ্রাধিকার হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, কৃষি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো খাতগুলিতেও বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি উঠছে। রিয়েল এস্টেট শিল্পের প্রতিও এবার বিশেষ নজর দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিনিয়োগে ভালো রিটার্ন নিশ্চিত করতে সুদের হারে বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশাও করছে সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ইপিএফও পেনশনভোগীদের আশা, এ বছর পেনশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।
এরই মধ্যে সামনে রয়েছে বাংলা, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরী ও অসমে নির্বাচন। ভোটমুখী এই রাজ্যগুলিতে বড় পরিকাঠামো বিনিয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে কেরল ও বাংলার দিকে বাড়তি নজর থাকতে পারে, কারণ এই দুই রাজ্য আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সবটাই এখনও জল্পনার স্তরেই রয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা, এই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে রাজস্ব ঘাটতির সীমা বজায় রেখেই। তার উপর বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এই সব সমীকরণ সামলে শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর ঝুলিতে কী চমক থাকে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশ।



