
ভোটের আগে অন্তর্বর্তী রাজ্য বাজেটে মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসিক ভাতা আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হল। এর ফলে সাধারণ বা জেনারেল শ্রেণিভুক্ত মহিলারা এবার থেকে মাসে ১৫০০ টাকা করে পাবেন। আর তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতা বেড়ে দাঁড়াল ১৭০০ টাকা। চলতি মাস থেকেই এই বাড়তি টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। লক্ষ্মীবারে বাড়তি লক্ষ্মীর ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি রাজ্যের মহিলারা।
২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রকল্প রাজ্যজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এমনকী, এই মডেল অনুসরণ করে দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যও অনুরূপ প্রকল্প চালু করেছে। কারণ, এই ভাতা সাধারণ গৃহবধূদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
চলতি অর্থবর্ষে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নতুন করে ২০ লক্ষ ৬২ হাজার মহিলা যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে মোট উপভোক্তার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৪১ লক্ষ। এতদিন সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলারা প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১ হাজার ২০০ টাকা করে পেতেন। এই অর্থ প্রতি মাসে সরকারি তহবিল থেকেই দেওয়া হত।
এবার অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য বরাদ্দ ১৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। তার জেরেই ভাতার অঙ্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় বহু মহিলার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে বিরোধী শিবির এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি আসলে ভোটের আগে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ‘ভোট কেনার কৌশল’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।



