
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। তারই মাঝে বীরভূমের সাঁইথিয়ায় কর্মীসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন—প্রার্থী যেই হোক না কেন, ভোট দিতে হবে জোড়াফুল প্রতীকেই। তাঁর দাবি, এই নির্বাচন মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী করার লড়াই।
🗳️ “প্রার্থী নয়, আসল প্রার্থী মমতা”—অনুব্রত মণ্ডল
রবিবার সাঁইথিয়ায় আয়োজিত তৃণমূলের কর্মীসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, এবারকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রার্থী যেই হোক, মনে রাখতে হবে আসল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যেক প্রার্থীর জয় মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়। তাই ভোট দিতে হবে জোড়াফুল চিহ্নে।”
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন রাজ্যের উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখার নির্বাচন।
আরও পড়ুন :: বিধানসভা ভোটের আগে বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের! ডিজি-সহ পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বড় বদলি
📊 সরকারি প্রকল্প ও ভাতার প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন অনুব্রত
সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলিও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে—
বকেয়া মহার্ঘভাতার একটি অংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত
পুরোহিত ও মোয়াজ্জেম ভাতা বৃদ্ধি
এই সিদ্ধান্তগুলিকে তিনি “মানবিক উদ্যোগ” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে ধারাবাহিকভাবে বহু প্রকল্প চালু করেছে।
🏛️ “দেশে এমন প্রকল্প অন্য কোথাও নেই”
অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের জন্য একাধিক সরকারি প্রকল্প রয়েছে। তিনি বলেন, “দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এত সংখ্যক প্রকল্পের সুবিধা মানুষ পান না। মুখ্যমন্ত্রী ধর্ম, বর্ণ বা জাতি নির্বিশেষে সব মানুষের উন্নয়নের কথা ভাবেন।”
আরও পড়ুন :: ভোট ঘোষণার পর বড় সিদ্ধান্ত, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব বদল করল নির্বাচন কমিশন
⚖️ অতীতের ৩৪ বছরের শাসনের প্রসঙ্গ
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য,
দীর্ঘ ৩৪ বছর রাজ্যের মানুষ অন্ধকারে ছিলেন
বর্তমানে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ধারা তৈরি হয়েছে
এই পরিবর্তনের কৃতিত্ব তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে দেন।
📉 “ভুল সিদ্ধান্তে আবার অন্ধকার নামতে পারে”
অনুব্রত মণ্ডল সতর্ক করে বলেন, মানুষের সামান্য ভুল সিদ্ধান্তে যদি এই পরিবর্তনের ধারা থেমে যায়, তাহলে রাজ্যে আবার অন্ধকার নেমে আসতে পারে।
📊 আসন নিয়ে বড় দাবি
ভোট দু’দফায় হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এক দফা হোক বা দুই দফায়—ফলাফলে কোনও পার্থক্য হবে না।
তাঁর দাবি—
বীরভূম জেলার ১১টি বিধানসভা আসনের সবকটিতেই জিতবে তৃণমূল
রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস পাবে ২৩০ থেকে ২৪০টি আসন



