উঃ ২৪ পরগনারাজনীতি

ভোটের আগে উত্তপ্ত হালিশহর! তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন প্রসেনজিৎ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভোটের আগে উত্তপ্ত হালিশহর! তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন প্রসেনজিৎ - West Bengal News 24

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শেষ দিনের প্রচারের সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে গুলিচালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে এক তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে এবং তা ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হালিশহরের খাসবাটি নর্থ রোডের বাসিন্দা তৃণমূল কর্মী প্রসেনজিৎ মৌলিক ওরফে রাজা ওই সময় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিস্রি পুকুর রোডে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যখন আচমকা বাইকে করে কয়েকজন মুখ ঢাকা দুষ্কৃতী সেখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, মোট তিন রাউন্ড গুলি চালানো হয়, যার মধ্যে একটি গুলি তাঁর পেটে লাগে এবং বাকি দুটি গুলি তাঁর পকেটে থাকা মোবাইলে লাগে। স্থানীয়দের মতে, মোবাইলে গুলি লাগার কারণে আরও বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি, যদিও ততক্ষণে তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারাই দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে Kalyani JNM Hospital-এ নিয়ে যান, যেখানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর আঘাত গুরুতর এবং তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন :: দ্বিতীয় দফার আগে প্রস্তুতি শেষ! সুষ্ঠু ভোটে আত্মবিশ্বাসী নির্বাচন দফতর

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী এবং এলাকা ঘিরে তল্লাশি শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই হামলার পেছনে বিজেপির মদত রয়েছে এবং নির্বাচনের আগে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। বীজপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী দাবি করেন, বিরোধী শিবির সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এই ধরনের সহিংস পথ বেছে নিয়েছে।

অন্যদিকে Bharatiya Janata Party-এর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। দলের প্রার্থী সুদীপ্ত দাস পাল্টা দাবি করেন, এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলও হতে পারে এবং বিজেপির সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকার কিছু দুষ্কৃতী শাসক দলের সঙ্গেই যুক্ত এবং এই ধরনের ঘটনার পেছনে স্থানীয় স্তরের বিবাদই দায়ী হতে পারে।

এই পরস্পরবিরোধী দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যে দিয়ে ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং তদন্তের উপরই এখন নির্ভর করছে প্রকৃত সত্য সামনে আসা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ভোটারদের উপর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে প্রশাসনের জন্য এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সমগ্র ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট যে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন নজর রয়েছে তদন্তের অগ্রগতির দিকে এবং একইসঙ্গে আসন্ন ভোটগ্রহণ কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার উপর।



SEO Keywords (সার্চ ইঞ্জিনের জন্য):

হালিশহর গুলিচালনা (Halisahar Firing)

উত্তর ২৪ পরগনা সংবাদ (North 24 Parganas News)

তৃণমূল কর্মী জখম (TMC worker injured)

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (WB Assembly Election)

দ্বিতীয় দফার ভোট (Phase 2 Voting)

রাজনৈতিক অস্থিরতা (Political Violence)

বীজপুর বিধানসভা (Bijpur Assembly Constituency)

কল্যাণী জেএনএম হাসপাতাল (Kalyani JNM Hospital)

নির্বাচনী সহিংসতা (Election Violence)

হালিশহর খবর (Halisahar News)

আরও পড়ুন ::

Back to top button