এক রাতেই ১২ লাখ টাকা! বিশ্বকাপের নিউ ইয়র্কে ফুটবল রোমাঞ্চের আড়ালে এ কোন ‘নিষিদ্ধ’ খেলা?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

গ্যালারিতে যখন মেসি-নেইমারদের পায়ের জাদু দেখার জন্য কাঁপবে বিশ্ব, ঠিক তখনই মাঠের বাইরে পর্দার আড়ালে বসতে যাচ্ছে কোটি কোটি ডলারের আরেক খেলা! ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক আর নিউ জার্সি এখন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমীর মূল গন্তব্য। কিন্তু এই মেগা ইভেন্টের আলো ঝলমলে খোলসের নিচে গোপনে ডালপালা মেলছে এক নিষিদ্ধ জগত। ফুটবল রোমাঞ্চের খোঁজে আসা কোটিপতি পর্যটকদের পকেট কাটতে ইতিমধ্যেই আমেরিকার এই অঞ্চলে ভিড় জমিয়েছেন হাই-প্রোফাইল এসকর্টরা। বুকিংয়ের জন্য চলছে কাড়াকাড়ি, যার এক রাতের খরচ শুনলে চোখ কপালে উঠবে আপনারও!
‘গ্রাহকের বন্যায় ভাসছি!’ ব্রুকলিনের যৌনকর্মীর বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস
বিশ্বকাপের বাঁশি বাজার আগেই নিউ ইয়র্কের গোপন ডার্ক-ওয়েব আর অনলাইন এসকর্ট সাইটগুলোতে ট্রাফিকের সুনামি বয়ে যাচ্ছে। ব্রুকলিনের এক নামী এসকর্ট কর্মী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পোস্ট’-এর কাছে ফাঁস করেছেন ভেতরের চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।
আরও পড়ুন :: এবার বিপাকে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার এফসি! ‘টাকার উৎস’ নিয়ে বড় তদন্তের হুঁশিয়ারি ক্রীড়ামন্ত্রীর!
তার দেওয়া তথ্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে:
ঘণ্টায় লাখ টাকা: তার সাথে মাত্র এক ঘণ্টা কাটানোর জন্য গুনতে হচ্ছে ৮০০ মার্কিন ডলার।
এক রাতের স্পেশাল প্যাকেজ: পুরো দিনের জন্য তার পারিশ্রমিক আকাশছোঁয়া—১০ হাজার ডলার! বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২ লাখ টাকার সমান।
তিন গুণ ট্রাফিক: মে মাস থেকেই তার প্রোফাইলে ইনবক্সের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকার অন্য ধনী স্টেটগুলো থেকে বুকিং আসছে সবচেয়ে বেশি।
দম্পতিদের গোপন ফ্যান্টাসি: এক মাসেই ২৫টি ‘কাপল রিকোয়েস্ট’!
ঐ যৌনকর্মী আরও জানান, এবারের বিশ্বকাপে এক অদ্ভুত ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। সাধারণত মাসে হয়তো একটা ‘কাপল’ বা দম্পতির কাছ থেকে তিনি বিশেষ সেবার অনুরোধ পেতেন। কিন্তু বিশ্বকাপ ঘিরে গত ৩০ দিনে রেকর্ড ২৫টি দম্পতি তার ডেট বুক করার জন্য পাগল হয়ে উঠেছে!
এদিকে নিউ জার্সির আরেক এসকর্ট জানিয়েছেন, জুন মাসের পুরো শিডিউল বুকড। শহরের বিলাসবহুল হোটেলে রুম বুক করে ইউরোপের ধনী ক্লায়েন্টরা ইতিমধ্যেই ৩ হাজার ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা) অ্যাডভান্স দিয়ে তার সময় লক করে রেখেছেন।
সতর্ক মার্কিন গোয়েন্দারা: মেগা ইভেন্টের আড়ালে কি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র?
টাকার এই পাহাড় আর নিষিদ্ধ আনন্দের পেছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার সত্যি। মার্কিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে এই বিপুল ক্যাশ লেনদেন। যেখানেই এমন বড় আন্তর্জাতিক ভিড় হয়, সেখানেই সক্রিয় হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক নারী ও মানবপাচারকারী মাফিয়ারা।
FinCEN-এর রেড অ্যালার্ট: মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (FinCEN) স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশ্বকাপের বিপুল অর্থনৈতিক লেনদেনের আড়ালে বড় ধরনের যৌন ও শ্রম পাচারের ছক কষছে অপরাধীরা।
মাঠে নামছে ১২০০ কমান্ডো ও পুলিশ: নিউ জার্সি স্টেট পুলিশের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু ক্যাজিয়ানো জানিয়েছেন, কোনো রকম অনৈতিক বা জোরপূর্বক পাচারের ঘটনা রুখতে স্টেডিয়াম ও তার আশেপাশের হোটেল-ক্লাবগুলোতে ১,২০০ ছদ্মবেশী ও সাধারণ পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।
আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। তবে মাঠের ফাইনালের আগেই মাঠের বাইরের এই নিষিদ্ধ খেলার ফাইনাল রুখতে কার্যত যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।



