আন্তর্জাতিক

খুলবে হরমুজ, ২৫ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে ইরান! ট্রাম্পের এক বার্তায় কি যুদ্ধের মেঘ কাটছে মধ্যপ্রাচ্যে?

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

খুলবে হরমুজ, ২৫ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে ইরান! ট্রাম্পের এক বার্তায় কি যুদ্ধের মেঘ কাটছে মধ্যপ্রাচ্যে? - West Bengal News 24

দীর্ঘদিনের চরম সংঘাতের পর অবশেষে কি শান্ত হতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্য? ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি চাঞ্চল্যকর বার্তার পর বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত বলে দাবি করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত হওয়া ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার মতো অবিশ্বাস্য কিছু শর্ত রয়েছে এই চুক্তিতে। রবিবারের এই মেগা আপডেট বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

📌 মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির মূল হাইলাইটস:

  • হরমুজ প্রণালী: সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ, নিশ্চিত হবে মুক্ত নৌচলাচল।

  • ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত: আমেরিকার হাতে আটকে থাকা বিশাল অঙ্কের তহবিল ফেরত পাচ্ছে তেহরান।

  • নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর থেকে সরছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অবাধে তেল বিক্রি করতে পারবে দেশটিকে।

  • পরমাণু নিয়ন্ত্রণ: বন্ধ হবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, তবে অসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে সাহায্য করবে আমেরিকা।

  • ৬০ দিনের ডেডলাইন: প্রাথমিক খসড়া সইয়ের পর ২ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে।

🤝 ট্রাম্পের বার্তা ও রয়টার্সের দাবি: কী রয়েছে খসড়া চুক্তিতে?

ইরানের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিকের সূত্র ধরে রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালের কূটনীতি অবশেষে সফল হতে চলেছে। প্রাথমিক খসড়ায় মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে: হরমুজ প্রণালী, বাজেয়াপ্ত অর্থ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি।

আপাতত একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সইয়ের পর আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে উপনীত হবে। ট্রাম্পের পরোক্ষ ইঙ্গিতের পর থেকেই বিশ্ব কূটনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এই সমঝোতা।

⚓ খুলে যাচ্ছে ‘হরমুজ প্রণালী’: বিশ্ব বাণিজ্যে স্বস্তি

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে। এই খসড়া চুক্তির ফলে:

  • ইরান এই কৌশলগত জলপথের ওপর থেকে সমস্ত রকম সামরিক কড়াকড়ি তুলে নেবে।

  • জবাবে আমেরিকাও এই অঞ্চলে তাদের নৌ-অবরোধ শিথিল করবে।

  • বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো রকম যুদ্ধকালীন আতঙ্ক ছাড়াই স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি আনবে।

💰 ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত এবং নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি!

চুক্তির সবচেয়ে বড় চমক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। দীর্ঘ বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ধুঁকতে থাকা ইরানের অর্থনীতি এই চুক্তির মাধ্যমে এক লপ্তে চাঙ্গা হতে পারে।

  1. তহবিল মুক্তি: আমেরিকার ব্যাংকে ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত হয়ে থাকা ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা) তেহরানকে ফেরত দেওয়া হবে।

  2. তেল বিক্রির ছাড়পত্র: আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান আবার স্বাভাবিকভাবে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারবে।

  3. নতুন নিষেধাজ্ঞা নয়: ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, চুক্তি মেনে চললে ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে না।

এই বিশাল ছাড়ের বিনিময়ে ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি গুটিয়ে নিতে হবে। আমেরিকার শর্ত অনুযায়ী:

  • ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

  • ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Uranium Enrichment) সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে এবং নতুন কোনো সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা যাবে না।

  • তবে, চিকিৎসার বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেবে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র নজরদারিতে ইরানকে এই বিষয়ে সাহায্যও করবে ওয়াশিংটন।

খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চুক্তির পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে (যেমন ইয়েমেন, লেবানন বা সিরিয়া) ছড়িয়ে থাকা তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ বা অস্ত্র সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবে। বদলে আমেরিকা ও ইরান ভবিষ্যতে বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবারই এই চুক্তি সইয়ের ইঙ্গিত দিলেও, হোয়াইট হাউস এখনই তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। আমেরিকার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মিত্র ইজরায়েল এবং সৌদি আরব এই চুক্তিকে কীভাবে দেখছে, তাদের সঙ্গে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে পারে। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকেই এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন ::

Back to top button