‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের চমক! বাংলামুখী ৪২ শিল্পপতি, প্রথম বাজেটেই বড় ধামাকার ইঙ্গিত
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়ে অন্তত ৪২ জন শিল্পপতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, চলতি বাজেট অধিবেশনেই শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যে শিল্পোন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সূত্রের দাবি, এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সরাসরি উদ্যোগ নিতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর রাজ্যের শিল্প ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব নীতি আয়োগকে দেওয়া হয় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। উপাধ্যক্ষ অশোক লাহিড়ির নেতৃত্বে সেই পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন :: ডিজে মন্তব্যের তদন্তে হাজিরা অভিষেকের, জিজ্ঞাসাবাদের পর দলীয় বৈঠকে যোগ
স্বাধীনতার সময় দেশের জিডিপি-র নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ছিল ভারতের দ্বিতীয় ধনীতম রাজ্য। তারও আগে অবিভক্ত বাংলা এই অবস্থানে ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে ধারাবাহিক অবনতির ফলে বর্তমানে রাজ্যটি ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শ্রমিক ইউনিয়নের অতিরিক্ত প্রভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নৈরাজ্য এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্ত এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে বিজেপিও তৎকালীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছিল। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে শিল্পোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধায় রাজ্যে উন্নয়নের গতি বাড়বে। এই আবহেই শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, ৪২ জন শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আগামী ২২ জুন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হবে। দুপুর ১২টায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় তা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ও গুরুত্ব অনেক বেশি।
রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিল্পায়নের প্রসার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাজেট থেকেই আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে।



