কলকাতার রাস্তায় এবার ‘মুঘল-পাঠান’ যোগ বাদ? সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদল ঘিরে তোলপাড় বিধানসভা! কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে তৈরি হলো বিশেষ কমিটি
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জি রোড করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই আবহেই শহরের আরও একাধিক রাস্তা ও এলাকার নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে রাস্তার নামকরণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণাও করেন তিনি। সেই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কার্তিক মহারাজকে।
বিধানসভায় এদিন সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সুরাবর্দির নাম থাকবে না। এই কলকাতায় কোনও মুঘল-পাঠানের নাম থাকবে না।”
আরও পড়ুন :: 💥 বিজিবিএসের নামে কোটি কোটি টাকার মহা-দুর্নীতি! বিধানসভায় ফাইল খুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ‘স্বাক্ষর’ দেখালেন শুভেন্দু!
নতুন নামকরণ ও পুরনো নামগুলির মূল্যায়নের জন্য কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কারও কাছে কোনও প্রস্তাব থাকলে তা ওই কমিটির কাছে জমা দেওয়া যেতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, কলকাতার কোনও রাস্তা বা এলাকার নাম মুঘল, পাঠান কিংবা অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকদের নামে রাখা হবে না। পাশাপাশি ভগিনী নিবেদিতা ব্যতীত অন্য কোনও বিদেশির নামে নামকরণও থাকবে না বলে জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এপিজে আব্দুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্ত থাকলে তথ্য দিন, মর্যাদা দেবে রাজ্য সরকার। আপনি আমাদের বাঙালির সংস্কৃতি, গৌরবে মুছিয়ে ফেলতে পারেন না।”
আরও পড়ুন :: আর জি কর কাণ্ডে বিচারের আশ্বাস, বিধানসভায় আবেগঘন মুহূর্তে ভেঙে পড়লেন অভয়ার মা
উল্লেখ্য, সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারপক্ষ এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরছে। দাবি করা হচ্ছে, ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর সঙ্গে যুক্ত হোসেন শহিদ সুরাবর্দির নামেই ওই রাস্তার নামকরণ হয়েছিল।
তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন বিরোধী শিবিরের একাংশ এবং কয়েকজন ইতিহাসবিদ। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নামকরণ হোসেন শহিদ সুরাবর্দির নামে নয়, বরং তাঁর দাদু মৌলানা ওবায়েদুল্লাহ সুরাবর্দির স্মৃতিতে করা হয়েছিল।
এর পাল্টা বক্তব্যে ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। আলোচনায় উঠে আসে স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা দাসের নামও। তিনি পুনরায় জানান, কলকাতার রাস্তা ও এলাকার নামকরণ নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



