মমতার সঙ্গ ছাড়লেন মদন! ঋতব্রতের পাশে বসে ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সব পদে ইস্তফা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দীর্ঘদিনের জল্পনায় অবশেষে ইতি পড়ল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেন মদন মিত্রও (Madan Mitra)। বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) পাশে বসে ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। মমতার দেওয়া দলীয় পদগুলো ছাড়ার পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন মদন। তাঁর অভিযোগ, অভিষেকের কারণেই তৃণমূলের এই পরিণতি হয়েছে এবং দল ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পর এবার মমতার শিবির ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে টানাপোড়েনের মধ্যেই এদিন বিধানসভায় গিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
মমতা তাঁকে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদেও ছিলেন তিনি। তবে এদিন সেই সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান মদন।
আরও পড়ুন :: ‘ইডির থেকে এবি বেশি ভয়ংকর, মমতার কথাও শোনে না!’ শিবির পাল্টেই অভিষেককে নিশানা মদনের
নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিধানসভায় পৌঁছেছিলেন কামারহাটির বিধায়ক। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা ও আখরুজ্জামান-সহ বিদ্রোহী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে ঋতব্রতের পাশে বসেই মমতার নেতৃত্বাধীন শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেন। একই সঙ্গে দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল দ্রুত ভাঙনের মুখে পড়েছে। এই দলবদলের নেপথ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
মঙ্গলবার দুপুরে মদন মিত্রের স্ত্রী ও পুত্রদের ইডি তলব করার পর রাতেই সন্দীপন সাহার তালতলার বাড়িতে যান তিনি। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা সন্দীপনের বাবা তথা এন্টালির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে বৈঠক করেন মদন। সেই বৈঠকের পর থেকেই তাঁর শিবির পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত-তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সেই জল্পনাই সত্যি হলো।
এদিন ঋতব্রতর পাশে বসে মদন বলেন, “তৃণমূলে ছিলাম। তৃণমূলেই রইলাম। শুধু এক ঘর থেকে আর এক ঘরে এলাম। দল একজনের জন্য নয়, সবার জন্য। একজনের জন্য দলের এই অবস্থা। তাঁর নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের জন্য গোটা দল ধ্বংস হয়েছে। দলের নৌকাডুবি হয়েছে।”



