৭০ বছরেও রূপ যেন ১৬ বছরের! ক্যানসার নেই, গড় আয়ু ১০০ – কোথায় বাস করে এই ‘অমর’ মানবগোষ্ঠী?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

৭০ বছর বয়সেও ত্বক একেবারে বলিরেখাহীন! দেখতে হুবহু ১৬ বছরের তরুণীর মতো। শতবর্ষ পার করেও শারীরিক সক্ষমতা তরুণদের টেক্কা দেয়। শুনলে কল্পবিজ্ঞান বা রূপকথা মনে হলেও, পৃথিবীর বুকে সত্যিই রয়েছে এমনই এক রহস্যময় উপজাতি। যেখানে ব্যাধি, বার্ধক্য কিংবা বিষণ্নতা ছুঁতে পারে না মানুষকে। কোথায় রয়েছে এই উপত্যকা? আর কী-ই বা তাঁদের এই চিরযৌবনের গোপন রহস্য?
চিরযৌবনের রহস্য উপত্যকা: কারা এই ‘হুনজা’ সম্প্রদায়?
পাকিস্তানের হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালার কোলে অবস্থিত হুনজা, চিত্রাল, নগর ও গিলগিট-বালতিস্তান উপত্যকা। সেখানেই বসবাস করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলা হুনজা (Hunza) উপজাতি, যারা স্থানীয়ভাবে ‘বুরুশো’ নামেও পরিচিত। পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ও সুখী মানবগোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা হয় এদের।
সাধারণ মানুষের কাছে বৃদ্ধ বয়স মানেই রোগব্যাধি ও শারীরিক দুর্বলতা। কিন্তু হুনজাদের ক্ষেত্রে হিসাবটা সম্পূর্ণ আলাদা!
অবিশ্বাস্য গড় আয়ু: এদের গড় আয়ু ১০০ বছর। এমনকি বহু মানুষ অনায়াসে ১২০ বছর বা তারও বেশি সময় বেঁচে থাকেন।
বিস্ময়কর মাতৃত্ব: এখানকার নারীরা ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সেও সন্তানের জন্ম দিতে পারেন এবং ৭০ বছর বয়সেও তাঁদের চেহারায় বার্ধক্যের কোনো ছাপ পড়ে না।
আরও পড়ুন :: এখানে এসেই ব্রা খুলে ফেলছেন নারীরা! এই অদ্ভুত জায়গার রহস্য কী?
চিকিৎসাবিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ: বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
হুনজাবাসীদের এই দীর্ঘ ও রোগহীন জীবনের রহস্য উদঘাটন করতে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন।

১. ক্যানসার বা আলসারের কোনো অস্তিত্বই নেই!
বিখ্যাত ব্রিটিশ চিকিৎসক ডক্টর রবার্ট ম্যাক্রিসন দীর্ঘদিন হুনজা সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছিলেন। তিনি তাঁর গবেষণায় প্রকাশ করেন, কয়েক বছর সেখানে থেকেও তিনি ক্যানসার, পেটের আলসার, অ্যাপেনডিসাইটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত কোনো একক ব্যক্তিকেও খুঁজে পাননি!
২. হিমানী নদীর বিশেষ জল ও দীর্ঘায়ু
বিজ্ঞানী ডক্টর হেনরি কোয়ান্ডা হুনজাদের জীবনযাত্রা এবং তাঁদের পানীয় জলের ওপর গভীর গবেষণা চালান। হুনজারা হিমবাহ গলানো যে জল পান করেন এবং যাতে স্নান করেন, তার খনিজ গুণাগুণই তাঁদের দীর্ঘায়ুর অন্যতম বড় কারণ। এ নিয়ে তিনি একটি বিখ্যাত বইও লেখেন।
উপন্যাসের অনুপ্রেরণা: হুনজা ভ্যালির এই অবিশ্বাস্য দীর্ঘায়ু ও জীবনধারার ওপর ভিত্তি করেই জেমস হিলটন তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘লস্ট হরাইজন’ (Lost Horizon) রচনা করেছিলেন।

কিসের জোরে এত সুস্থ এরা? হুনজাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা
বিজ্ঞানীদের মতে, এদের অলৌকিক স্বাস্থ্যের পেছনে রয়েছে অত্যন্ত কড়া ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রা:
সম্পূর্ণ অর্গানিক খাবার: তারা কোনো প্রক্রিয়াজাত (Processed) খাবার খায় না। তাজা ফল, শাকসবজি, শস্য এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যাপ্রিকট (খুবানি) তাঁদের খাদ্যতালিকায় থাকে।
উপবাস ও তাজা জল: বছরের নির্দিষ্ট সময় তারা শুধুই ফলের রস খেয়ে উপবাস ব্রত পালন করে।
কঠোর পরিশ্রম: পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হাঁটা তাঁদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ।

আপনিও ঘুরে আসতে পারেন হুনজা ভ্যালি! কখন যাবেন?
বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে হুনজা ভ্যালি এক স্বর্গীয় গন্তব্য। কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেই নয়, এই অনন্য উপজাতির জীবনধারা কাছ থেকে দেখতে প্রতিদিন বহু পর্যটক সেখানে ভিড় জমান।
ভ্রমণের সেরা সময়: হুনজা উপত্যকায় ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় হলো এপ্রিল থেকে অক্টোবর।
আবহাওয়া: গ্রীষ্মকালে এখানকার তাপমাত্রা থাকে অত্যন্ত মনোরম (সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস), যা ঘুরে বেড়ানোর জন্য আদর্শ।
পাহাড়ের কোলঘেঁষা এই রহস্যময় উপত্যকা ও তার অধিবাসীরা আজও আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রের কাছে এক মহাবিস্ময়!




