
তীব্র বিরোধিতা এবং উত্তপ্ত আলোচনার মধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গেল পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ সংশোধনী বিল। সংসদের নিম্নকক্ষে ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে বিলটি অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার বিলটি লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল। এরপর প্রায় দু’দিন ধরে তা নিয়ে আলোচনা চলে। বিরোধীরা বারবার দাবি জানালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিলের আলোচনায় অংশ নেননি।
বুধবার বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় লোকসভায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দিল্লিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করেন। তবে ওই সময় লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাহুলের বক্তব্যের পরেই বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হয়। ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ চলাকালীন বিরোধী সাংসদেরা সভা থেকে ওয়াকআউট করেন। শেষ পর্যন্ত লোকসভায় বিলটি পাশ হয়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করা হবে।
আরও পড়ুন :: অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতে টাকার পাহাড়! আনা হলো ৫টি নোট গোনার যন্ত্র ও ট্রাঙ্ক
উল্লেখ্য, গত ৩ মে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া। কিন্তু পরীক্ষার প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। পরিস্থিতির জেরে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় এনটিএ। এই ঘটনায় হতাশ হয়ে একাধিক পড়ুয়ার আত্মহত্যার খবরও প্রকাশ্যে আসে। দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ওঠে।
ঘটনার নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশ্ন ফাঁসটা ঘোর পাপ হয়েছে। তবে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সরকার পদক্ষেপ করেছে।”
এরপরেই প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিল আনে কেন্দ্রীয় সরকার। বিলে দোষীদের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কোনও সংস্থা দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদের পাঁচ থেকে ১০ বছরের জেল হতে পারে। পাশাপাশি ১ কোটি টাকা জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন আইনে জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সোমবার লোকসভায় বিলটি পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। বিল পেশ হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই তা লোকসভায় পাশ হয়ে গেল।



