‘জনগণ’র মতো আইনি মর্যাদা পেল ‘বন্দে মাতরম’, অবমাননা করলে হতে পারে কারাদণ্ড
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণ’-কে অসম্মান করলে যে ধরনের আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে, এবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। জাতীয় গানটির অবমাননা করলে কারাদণ্ডের মুখেও পড়তে হতে পারে। বুধবার সংসদে জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাশ করিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
এদিন রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই ‘নিট’ প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগে সরব হন বিরোধী সাংসদেরা। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাব দাবি করে স্লোগানও দেওয়া হয়। বিরোধীদের হট্টগোল চলাকালীনই বিলটি পাশ করানোর জন্য উচ্চকক্ষে পেশ করা হয়। পরে আলোচনা চলার সময় বিরোধীরা সভা থেকে ওয়াকআউট করেন। এরপর ধ্বনি ভোটে জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ অনুমোদিত হয়।
আরও পড়ুন :: ১ আগস্ট থেকে কলকাতার স্কুলে ইসকনের মিড ডে মিল! পাতে থাকবে ডিমও, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইনের পরিধি আরও বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন দেশের জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হত। এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে এতদিন জাতীয় গান এই আইনের আওতায় ছিল না। সংশোধিত আইনে এবার জাতীয় গানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা ও মর্যাদা দেওয়া হলো।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরম্-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করা হচ্ছে। গানটি ১৮৭৫ সালে লেখা হলেও প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৮২ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমবার এই গান পরিবেশন করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল বন্দে মাতরমের ভাষা ও ভাবধারা। জাতীয় গানটির মর্যাদা আরও বৃদ্ধির দাবিতে কংগ্রেস সরকারের আমলে একাধিকবার সরব হয়েছিল বিজেপি। এবার কেন্দ্রের ক্ষমতায় থেকে সেই দাবিকে আইনি রূপ দিল মোদি সরকার।



