অজনার নদী পরিষ্কারের স্বীকৃতি, ‘বিট্টু তবাহী’কে নেদারল্যান্ডসে কাজের প্রস্তাব বয়ান স্ল্যাটের
ওয়েবডেস্ক

মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার অজনার নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা ২১ বছরের তরুণ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বিট্টু তবাহী’ নামে পরিচিত এই তরুণের কাজ নজরে পড়েছে The Ocean Cleanup-এর প্রতিষ্ঠাতা ও CEO বয়ান স্ল্যাটের। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ X-এ তাঁর কাজের একটি পোস্ট দেখে স্ল্যাট সরাসরি লেখেন, “Come work for us.”
তবে এই মুহূর্তে এটিকে চাকরির প্রস্তাব বা কাজের আমন্ত্রণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিট্টু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন বা নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে নেই।
কী ঘটেছিল?
রাজগড় জেলার বিয়াওরা এলাকার বাসিন্দা সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী অজনার নদীর দূষিত অবস্থা দেখে নিজেই পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। নদীর একটি অংশে জমে থাকা প্লাস্টিক, বোতল, জলজ আগাছা, কাদা ও অন্যান্য আবর্জনা সরাতে তিনি নিয়মিত নদীতে নামতেন।
এই উদ্যোগ শুরু হয় ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, প্রজাতন্ত্র দিবসে। প্রথম দিকে কয়েকজন বন্ধু তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরে তাঁদের অংশগ্রহণ কমে গেলে সুরেন্দ্র মূলত একাই কাজ চালিয়ে যান।
পরিষ্কারের আগে ও পরে নদীর অবস্থার ছবি এবং কাজের ভিডিও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করতে থাকেন। সেখান থেকেই তাঁর উদ্যোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
কীভাবে একাই নদী পরিষ্কার করলেন ‘বিট্টু তবাহী’?
বিট্টুর উদ্যোগ ছিল মূলত হাতে-কলমে। ভারী যন্ত্রপাতি বা বড় কোনও পরিষ্কারকর্মী দলের পরিবর্তে তিনি সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে নদী থেকে আবর্জনা তুলেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকার কথাও উঠে এসেছে।
নিজের সঞ্চয়ের টাকা থেকেও তিনি পরিষ্কারের কাজে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন দূষিত পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যেও প্রভাব পড়ে—ত্বকের সমস্যা ও সংক্রমণের মতো সমস্যার কথা উঠে এসেছে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—বিট্টু গোটা অজনার নদী সম্পূর্ণ একাই পরিষ্কার করেছেন, এমন দাবি করা ঠিক হবে না। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নদীর একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কারের কাজ চালিয়েছেন এবং সেই প্রচেষ্টাই তাঁকে পরিচিত করে তোলে।
কেন আন্তর্জাতিক নজরে এল তাঁর কাজ?
বিট্টুর নদী পরিষ্কারের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। শিল্পপতি আনন্দ মহিন্দ্রার মতো ব্যক্তিত্বও তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ৪ সেপ্টেম্বর একটি পোস্টে অজনার নদী পরিষ্কারের কাজের কথা সামনে আসে। সেই পোস্টে বিট্টুকে ২০ বছরের ভারতীয় তরুণ হিসেবে পরিচয় করিয়ে তাঁর কয়েক মাসের কাজের ছবি দেওয়া হয়েছিল। পোস্টটি নজরে আসে বয়ান স্ল্যাটের।
The Ocean Cleanup-এর প্রতিষ্ঠাতা ও CEO স্ল্যাট সেখানে সরাসরি লেখেন—“Come work for us.” অর্থাৎ, তাঁর কাজ দেখে স্ল্যাট বিট্টুকে নিজের সংস্থায় কাজ করার আমন্ত্রণ জানান।
A 20 year old Indian man, Surendra Singh Choudhry, known as “Bittu Tabahi,” has been cleaning the heavily polluted Ajnar River himself for months pic.twitter.com/U7N4BkItkf
— non aesthetic things (@PicturesFoIder) September 4, 2026
কে এই ‘বিট্টু তবাহী’?
‘বিট্টু তবাহী’ আসলে সুরেন্দ্র সিং চৌধুরীর সোশ্যাল মিডিয়া পরিচয়। তিনি মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বিয়াওরার বাসিন্দা এবং বর্তমানে দ্বিতীয় বর্ষের BSc পড়ুয়া বলে NDTV-সহ একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘তবাহী’ শব্দের অর্থ ধ্বংস হলেও তাঁর অনলাইন পরিচয়ের সঙ্গে বাস্তব কাজের রয়েছে একেবারে উল্টো সম্পর্ক। নদী ও আশপাশের পরিবেশে জমে থাকা বর্জ্য সরিয়ে পরিষ্কার করার উদ্যোগই তাঁকে পরিচিত করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ
নদী পরিষ্কারের উদ্যোগের খবর পৌঁছেছে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের কাছেও। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ভোপালে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে সুরেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যাদব পরে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও সুরেন্দ্রের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সেখানে তিনি বলেন, পরিবর্তনের জন্য বড় ভিড়ের প্রয়োজন নেই, আন্তরিক একটি উদ্যোগও পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
এখন কী হবে?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিট্টু তবাহী কি The Ocean Cleanup-এর প্রস্তাব গ্রহণ করবেন?
প্রকাশ্যে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বয়ান স্ল্যাট তাঁকে কাজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু বিট্টু প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন, কবে নেদারল্যান্ডসে যাবেন বা ঠিক কোন পদে কাজ করবেন—এসব বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই এই পর্যায়ে তাঁর বিদেশযাত্রা বা নতুন চাকরি নিশ্চিত বলে দাবি করা ঠিক হবে না।
অন্যদিকে, অজনার নদী নিয়ে স্থানীয় স্তরেও কাজের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ একজন তরুণের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নদীর একটি অংশ পরিষ্কার হলেও দীর্ঘমেয়াদে নদীকে পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের সচেতনতা জরুরি।
অজনার নদীর ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিট্টু তবাহীর গল্প শুধু একজন তরুণের ব্যক্তিগত উদ্যোগের ঘটনা নয়। এটি দেখাচ্ছে, স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে একজন নাগরিকের উদ্যোগ কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বৃহত্তর মানুষের নজরে আসতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংগঠনের কাছেও পৌঁছতে পারে।
তবে একই সঙ্গে ঘটনাটি নদী দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাটিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। একজন ব্যক্তি পরিষ্কার করলেই নদী স্থায়ীভাবে দূষণমুক্ত হবে না; তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক এবং নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সূত্র: NDTV-র ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। বয়ান স্ল্যাটের প্রকাশ্য X বার্তার ভিত্তিতে কাজের আমন্ত্রণের তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
FAQ
১. বিট্টু তবাহী কে?
বিট্টু তবাহী হলেন মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বিয়াওরার বাসিন্দা সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী। তিনি একজন BSc পড়ুয়া এবং অজনার নদী পরিষ্কারের উদ্যোগের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হয়েছেন।
২. বিট্টু তবাহী কোন নদী পরিষ্কার করেছেন?
তিনি মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বিয়াওরা এলাকার অজনার নদীর একটি দূষিত অংশ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন।
৩. বিট্টু তবাহীকে কে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছেন?
The Ocean Cleanup-এর প্রতিষ্ঠাতা ও CEO বয়ান স্ল্যাট তাঁকে প্রকাশ্যে কাজ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
৪. বয়ান স্ল্যাট কী বলেছিলেন?
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বিট্টুর কাজ নিয়ে একটি পোস্টের জবাবে স্ল্যাট লেখেন, “Come work for us.”
৫. বিট্টু কি বিদেশের চাকরি গ্রহণ করেছেন?
এখনও এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে নেই। আপাতত নিশ্চিত বিষয় হল, তাঁকে কাজ করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৬. বিট্টু কবে অজনার নদী পরিষ্কার শুরু করেন?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন।



