
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী ৩৫টি ট্রাক আটকে নদিয়ার চাকদহ বনগ্রাম রোডের ধারে সুটরা এলাকায়। করোনা ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে যে লকডাউন জারি করা হয়েছে তার জেরেই আটকে পড়েছে ট্রাকগুলি। টানা প্রায় চল্লিশ দিন ধরে এখানেই রয়েছেন চালক ও খালাসিরা। এঁদের বাড়িও দেশের বিভিন্ন জায়গায় – কেউ এসেছেন পুণে থেকে, কেউবা মুম্বই, পঞ্জাব, হরিয়ানা বা রাজস্থানের কোনও শহর থেকে। এঁদের সকলেরই গন্তব্য বাংলাদেশ সীমান্ত।
করোনায় সংক্রামিতের সংখ্যা রোজই বাড়ছে। এই অবস্থায় সীমান্ত পারাপার কবে চালু হবে জানেন না কেউই। তাই কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না ট্রাকের চালক ও খালাসিরা। নদিয়ার চাকদহের একটি খোলা মাঠের ধারে এই সমস্ত ট্রাক চালকরা আটকে রয়েছেন দীর্ঘদিন। দোকান ও হোটেল বন্ধ থাকায় তাঁদের খাবার-দাবারও জুটছে না বললেই চলে। সাংবাদিকদের কাছে এই খবর পেয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসেন রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প দফতরের প্রতিমন্ত্রী রত্না ঘোষ কর।
আটকে পড়া চালক ও খালাসিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এই সমস্ত ট্রাকচালকদের কথা অনুযায়ী যে ক’দিন তাঁদের এই জায়গায় থাকার কথা ছিল তার মেয়াদ অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে। প্রথম দিকে দিন কয়েক ট্রাকের মালিকরা তাঁদের টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করছিলেন বটে কিন্তু বর্তমানে তাঁরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এখন চূড়ান্ত অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এঁরা সকলে। অন্যদিকে তাঁদের পরিবারও এখন তাঁদের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
ধনরাজ সিং নামে এক চালক বলেন, ‘ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালসের জিনিস নিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে দেওয়ার জন্য গত ১৬ মার্চ রওনা হয়েছিলাম পুণে থেকে। তারপরে এখানে এসে আটকে পড়েছি। এখানেই পড়ে আছি। খাওয়া-দাওয়া সেভাবে জুটছে না।’ রণজিত্ তিওয়ারি নামে আর এক জন চালক বলেন, ‘আড়াই হাজার টাকা করে দৈনিক পারকিং ফিজ দেওয়ার কথা কিন্তু যেখানে আমি মাল নিয়ে যাচ্ছি তিনি সেই টাকা দিতে নারাজ। কোনও রকমে সবাই মিলে এক সঙ্গে এক বেলা খেয়ে আবার কখনও না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি এখানে।’ মন্ত্রী রত্না ঘোষ কর জানান যে এই সমস্ত ট্রাক চালকদের জন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হবে।
সুত্র: THE WALL



