
ওয়েবডেস্ক : ফের লোকারণ্য কলকাতা। ‘আনলক ১’-এর প্রথম দিন কলকাতার রাস্তার চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেল। সোমবার সপ্তাহ ও মাসের প্রথম দিন। সাধারণ সময়ে এই ব্যস্ততা থাকে চরমে। কিন্তু দীর্ঘ লকডাউনে সেসব অতীত হয়ে গেল, আজকে আবার তা ফিরে এল। পথে বেরিয়ে মনে হচ্ছে, যেন একেবারে লকডাউন পূর্ব কলকাতার স্বাভাবিক চিত্র।
রাস্তায় বেসরকারি বাস না থাকলেও প্রাইভেট গাড়িতে ছয়লাপ। কোনও কোনও সরকারি বাসস্ট্যান্ডে সকালে থেকে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। অনেক রাস্তায় এদিন যানজটও দেখা যায়। এদিন ফেরি সার্ভিসও চালু হয়ে গিয়েছে। যাত্রী সংখ্যার নিয়ম মেনে কদিন আগেই শুরু হয়েছে অটো পরিষেবা।
সরকারি ও বেসরকারি দফতর অনেকাংশেই খুলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বেলা গড়াতেই ভিড় বেড়েছে রাস্তায়।সোমবার কলকাতার রাস্তায় বাসের লাইনে যাত্রীরা। ছবি- অরুনিমা কর্মকার
বলে রাখা যাক, পঞ্চম দফার লকডাউনে নানা ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংক্রমণ হয়েছে রাজ্যে। ৩৭১ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। রাজ্যে সব থেকে বেশি সংক্রমণ কলকাতায় ও তারপরে হাওড়ায়। তাছাড়া রাজ্যের সমস্ত জেলাতেই করোনা থাবা বসিয়েছে।
এদিন কলকাতার রাস্তা, বাজার-হাটের চিত্র থেকে স্পষ্ট যে অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ব থাকছে না ছিটোফোঁটাও। যেভাবে এদিন বাড়ির বাইরে মানুষ বেরিয়েছে তাতে সামাজিক দূরত্ব রাখা কতটা সম্ভব সেই প্রশ্নও সঙ্গত।

রাস্তায় ছিল দুচাকার গাড়ির দাপটও। ছবি- অরুনিমা কর্মকার
এদিকে এদিন বেসরকারি বাস ও মিনিবাস রাস্তায় নামেনি। বাস মালিক সংগঠনগুলি বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাসের ভাড়া বৃদ্ধি এবং সরকারি আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানিয়েছে তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘স্ট্যান্ডিং যাত্রী’ ছাড়া বাসে লাভ হবে না। সে ক্ষেত্রে সরকারকে বাসের ভাড়া বাড়াতে হবে।
মঙ্গলবার তাঁরা কসবার পরিবহণ দফতরে দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেবেন। বাসের ভাড়া কত হতে পারে সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বাস মালিক সংগঠনের কর্তারা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দোকান-পাটও খোলা হয়েছে। সোমবার কলকাতার বিভিন্ন মার্কেট চত্বরও খুলে গিয়েছে। এদিন শহরতলিতেও রাস্তা, বাজারে ভিড় লক্ষ্য করা গিয়ছে।
সুত্র: The Indian Express বাংলা



