
অভাবের জেরে লেখাপড়া মাথায় উঠেছে বছর ষোলোর মহেশ্বরী আর তার বোনের! মা লোকের বাড়িতে কাজ করত আগে। লকডাউনে সেই কাজ আর নেই। সংসার বাঁচাতে এখন গোটা পরিবার চাষের কাজ করছে। এটা শুধু তেলেঙ্গনার একটি পরিবারের গল্প নয়, একই ছবি গোটা দেশে। স্কুল ছেড়ে কাজে লেগে যাচ্ছে বাচ্চারা।
লকডাউনের আগে থেকেই স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছিল দেশে। ২০১৮ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে প্রায় ছ’কোটি পড়ুয়া স্কুল-বিমুখ! বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিনস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম-এই সবকটি দেশ মিলিয়ে মোট স্কুলছুটের যা সংখ্যা, ভারতে তার দ্বিগুণের বেশি।
সমীক্ষার হিসেব বলছে, অর্থনৈতিক ক্ষতির বিচারে নষ্ট-উত্পাদনের পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার কোটি। অর্থাত্ স্কুলছুট পড়ুয়ারা পড়াশোনা শিখে কাজে যোগ দিলে দেশের মোট উত্পাদন ওই পরিমাণ বাড়তে পারত!
বিশ্বে কমবয়সীদের সংখ্যা ভারতেই সবচেয়ে বেশি। লকডাউনে তারা এখন অনিশ্চয়তায় দিন গুণছে! অর্থনীতিতে এর প্রভাব সূদূরপ্রসারী।
[ আরও পড়ুন : হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের আকাশপথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাফাল ]
রিপোর্ট বলছে, উত্পাদন এবং মাথাপিছু আয় কমবে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে। দারিদ্র বাড়লে সরকারের ওপরও চাপ বাড়বে। শিশু অধিকার এবং সুরক্ষার বিশেষজ্ঞ রাম্য সুব্রহ্মণ্যম বলছেন, ‘এই সঙ্কটের দিনে যাদের স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা, তাদের অনেকেই হয়ত আর কোনওদিন স্কুলের মুখ দেখবে না।
পরিণতি, শিশুশ্রম সমস্যা মাথাচাড়া দেবে ভারতে।’ লকডাউন উঠে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোদমে শুরু হলে কল-কারখানার মালিকেরা চাইবেন, কম মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করতে। পরিবারের রোজগার বাড়াতে ছেলেমেয়েদেরও সঙ্গে করে শহরে নিয়ে এসে কাজে লাগিয়ে দেবেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা, মনে করছেন ‘চিল্ড্রেনস ভিলেজ’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বিশেষজ্ঞ অভিষেক কুমার।
আবার পরিযায়ী শ্রমিকের একটা অংশ হয়ত আর কোনওদিনই শহরে ফিরবে না। শ্রমিকের বাজারে সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে স্থানীয় স্কুলছুট ছেলেমেয়েরা। টাকার অভাবে তারাই অনেক কম মজুরি কাজ করতে রাজি হবে, মনে করছেন অনেকে। বাচ্চাদের জোর করে কাজে লাগানোর ঘটনাও বাড়বে দেশে।
এই লকডাউনেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বচপন বাঁচাও আন্দোলন’ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এমন ৫৯১ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে, যাদের ‘বলপূর্বক’ খাটানো কলকারখানায়, চাষের কাজে বা ইটভাটায়! দেনা শোধ করতে না পারায় পরিবারের চাপে পড়ে কাজে লেগে যেতে হয়েছে, এমন অনেক শিশুও ছিল তাদের মধ্যে।
[ আরও পড়ুন : একশ হেরন ড্রোন-মিসাইল পাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী ]
বিগত দু’দশকে গোটা বিশ্বে শিশুশ্রম সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছিল। করোনা সঙ্কট-লকডাউন-অর্থনৈতিক মন্দায় এই সমস্যা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আইএলও বলছে, দারিদ্রের কারণে গোটা বিশ্বে অন্তত ছ’কোটি পড়ুয়া লেখাপড়া ছেড়ে কাজ খুঁজতে শুরু করবে। ইন্দোনেশিয়ায় অন্তত এক কোটি ছেলেমেয়ে শিশুশ্রমের শিকার হতে পারে লকডাউনের পর!
সূত্র : আজকাল.in



