২১ জনকে হত্যা ও ৭০০ জনকে আহতের পর ইসরায়েলকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ পশ্চিমা দেশ গুলির

দীর্ঘদিন ধরে দখলদার খুনী ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় রক্ত ঝরছে ফিলিস্তিনির বুকে। ঝরছে শত শত তাজা প্রাণ। নিরস্ত্র, অসহায় মানুষ- যারা নিজেদের বাড়িঘর আর জমি রক্ষার দাবি তুলে আসছে তাদের ওপর যখন তখন তাণ্ডব চালায় ইহুদিরা।
তারই জেরে পবিত্র রমজান মাসেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেরুজালেম। রমজানের শেষ জুমা তথা জুমাতুল বিদা, পবিত্র শবে কদরসহ বিভিন্ন দিনে মুসল্লিদের ওপর তাণ্ডব চালায় ইহুদিরা।
ইসরায়েলের খুনী ইহুদিরা সোমবার লোকালয়ে বিমান হামলা চালিয়ে কেড়ে নেয় ৯ শিশুসহ ২১ জনের প্রাণ। এ ছাড়া রমজানের শুরু থেকে বিভিন্ন সময় নিজেদের বাড়ি-ঘর রক্ষায় তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৭০০’র বেশি ফিলিস্তিনি।
কদিনের সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট মঙ্গলবার (১১ মে) জানায়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭০০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
২১ জনকে হত্যা আর ৭০০ জনকে আহত করার পর এবার টনক নড়লো পশ্চিমা দেশগুলোর। তাও দায়সারাভাবে ইসরায়েলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানোলো তারা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনা প্রশমনের তাগিদ দিয়েছে দেশ দুটিকে।
এর আগে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি পুলিশের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানো হয়। গতকাল সোমবার ফিলিস্তিনের হামাসসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলা চালায়। এর জবাবে গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় ৯ শিশুসহ কমপক্ষে ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬৫ জন।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, এই বিমান হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন হামাসের সদস্য। গাজা থেকে দেড়শ’ রকেট ছোড়া হয়েছে। এগুলো ‘আয়রন ডোম এরিয়াল ডিফেন্স সিস্টেম’ ব্যবহার করে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গতকালের এই হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর তাণ্ডব চালালেও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে মার্কিনীরা।
হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু চলতি সপ্তাহের শুরুতে। আল-আকসায় পবিত্র জামাআতুল বিদা আদায়কে কেন্দ্র এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বলা হচ্ছে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা।
সূত্র : আলজাজিরা



