বীরভূম

‘‌দুয়ারে শিক্ষা’‌ কর্মসূচি চালু করল বীরভূমের বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়

সুরজিত্‍ ঘোষ হাজরা

‘‌দুয়ারে শিক্ষা’‌ কর্মসূচি চালু করল বীরভূমের বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয় - West Bengal News 24

নতুন কর্মসূচী। দুয়ারে শিক্ষা। না, এটা রাজ্য সরকারের কোনও নতুন প্রকল্প নয়, এটা বীরভূমের এক প্রত্যন্ত গ্রামের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রকল্প। ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াশোনার অগ্রগতি ও তাঁদের কোনও সমস্যা থাকলে তার নিরসন- এই লক্ষ্যেই এমন অভিনব প্রকল্প নিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

প্রায় দেড় বছরের উপর করোনার কারণে বন্ধ বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন। এতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় যেমন প্রভাব পড়েছে, তেমনই প্রভাব পড়েছে তাঁদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও। এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অনেকের কাছে এখনও অনলাইনে পড়াশোনা করার সুবিধাটুকু নেই। এই সব সমস্যার সমাধান করতেই বুধবার থেকে বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম বাজিতপুরের- বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘দুয়ারে শিক্ষা’ নামের এই কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে।

বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, রাজ্য সরকারের ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মান প্রাপ্ত, প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, ‘‌দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পঠনপাঠন বন্ধ। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কোনও যোগাযোগ নেই। গতবছর এবং এ বছরে যাঁরা নতুন ভর্তি হয়েছে, তাঁরা তাদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চেনেই না। তাছাড়া অনলাইনে পঠনপাঠন থেকে অনেকে বঞ্চিত রয়েছে, এই অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা কি অবস্থায় রয়েছে। কিভাবে কতটুকু করতে পারছে ইত্যাদি বিষয়ে সরাসরি ছাত্র ছাত্রী এবং অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করতেই দুয়ারে শিক্ষা কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে।’‌

তিনি আরও বলেন, যে স্কুল বন্ধের প্রভাব ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাতে ব্যাপকভাবে পড়ছে। সেই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে অনেক ছাত্রছাত্রী তাঁদের সংসারে সাহায্য করতে গিয়ে পড়াশোনা ছেড়েছে। এমনকি স্কুল বন্ধ থাকায় নাবালিকাদের বিয়ের প্রবণতাও একটু বেড়েছে গ্রামাঞ্চলে। এই সব স্কুলছুট ছাত্রছাত্রীদের ফের স্কুলমুখী করতে এবং নাবালিকাদের বিয়ে আটকাতেও ‘দুয়ারে শিক্ষা’ কর্মসূচি কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সুত্রে খবর, এই বিদ্যালয়ের অধীন তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১৪ টি গ্রাম রয়েছে, যেখানকার ছেলেমেয়েরা এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত স্কুলের শিক্ষকেরা ওই পঞ্চায়েত এলাকায় এক-একদিন এক-একটা গ্রামে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পড়াশোনা সম্বন্ধে খোঁজখবর নেবেন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, প্রতিটি এলাকায় যাদের মোবাইল রয়েছে, আর যাদের মোবাইল নেই, এমন বেশ কয়েক জন ছেলেমেয়েকে নিয়ে একটি করে টিম তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা সকলেই পারস্পরিক সহযোগিতায় নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, এতে ভাল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলেই জানান প্রশান্তবাবু।

বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার দাসের নেতৃত্বে জয়রামপুর গ্রামের দশটি বাড়ি এবং বাজিতপুর আদিবাসী পাড়ায় পাঁচটি বাড়িতে গিয়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গতকাল বুধবার মহঃবাজার থানার শ্রীরামপুর এবং জয়পুর গ্রামে মোট ৩০ জন ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে এই ‘দুয়ারে শিক্ষা’ কর্মসূচী নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে স্কুল সূত্রে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগে খুশি ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা।

সুত্র : আজকাল

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য