আন্তর্জাতিক

মহিলার স্বল্প পোশাক পরছে বলেই দেশে ধর্ষণ বাড়ছে! বললেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

মহিলার স্বল্প পোশাক পরছে বলেই দেশে ধর্ষণ বাড়ছে! বললেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান - West Bengal News 24

ফের ধর্ষণের জন্য মেয়েদের পোশাক আশাককেই দায়ী করে বিতর্কিত মন্তব্য ইমরান খানের, যার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে পাকিস্তানে। দেশে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে মহিলারা কেমন পোশাক পরছেন, তার যোগসূত্র আছে বলে অভিমত জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। একটি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তাঁর মন্তব্য, কোনও মহিলা যদি খুব স্বল্প বসনে থাকেন, তবে পুরুষদের ওপর তো তার প্রভাব পড়বেই, অবশ্য যদি না তারা রোবট হয়।

এটা তো সাধারণ জ্ঞান। সোস্যাল মিডিয়ায় ইমরানকে তুলোধনা করছেন বিরোধী নেতারা, সাংবাদিকরাও। ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস এর দক্ষিণ এশিয়া শাখার আইনি উপদেষ্টা রিমা ওমর ট্যুইট করেছেন, খোলাখুলি বললে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পাকিস্তানে যৌন হিংসার জন্য নির্যাতিতার দিকেই ফের আঙুল তুলতে দেখে হতাশ হচ্ছি, খারাপ লাগছে।

যদিও পাক প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল মিডিয়া সংক্রান্ত শাখার প্রধান ডঃ আরসালান খালিদের দাবি, ফের তিনি আসলে যা বলেছেন, তার কিছুটা অংশ ছেঁটে বাছাই করা অপ্রাসঙ্গিক অংশ তোলা হচ্ছে। আমরা কোন ধরনের সমাজে থাকি, সেখানে যৌন হতাশা সংক্রান্ত অংশটাই বাদ পড়েছে।

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হওয়া ইমরান কিছুদিন আগেই পাকিস্তানে যৌন নিগ্রহ বৃদ্ধির জন্য অশালীনতাই দায়ী বলে অভিমত জানান। সেই বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি। লাইভ টিভিতে সাক্ষাত্কার ইমরান বলেছিলেন, গোটা পর্দা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হল প্রলোভন, প্ররোচনা অগ্রাহ্য করা। তাকে অস্বীকার করার মনের জোর সবার থাকে না।

দেশে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন রোধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তাঁর সরকার, প্রশ্ন করা হলে তিনি এসব বলেন। গত এপ্রিলে এজন্য কয়েক হাজার মানুষ ইমরানের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়া মানসিকতার অভিযোগে এনে বিবৃতিতে সই করে দাবি করেন, তিনি ক্ষমা চান। পাকিস্তানের সরকারি পরিসংখ্যানে প্রকাশ,দেশে প্রতি ২৪ ঘন্টায় অন্ততঃ ১১টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়।

গত ৬ বছরে এমন ২২ হাজার ঘটনার অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশের কাছে। কিন্তু ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয় মাত্র ০.৩ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে পাক প্রেসিডেন্ট আরিফি আলভি মহিলা ও বাচ্চাদের যৌন নিগ্রহের বিচারে বিশেষ আদালত গঠনের জন্য ধর্ষণ বিরোধী অর্ডিন্যান্স, ২০২০ অনুমোদন করেন। সেই আইনে এধরনেরর মামলার বিচার প্রক্রিয়া চার মাসে শেষ করতে হবে বলা হয়েছে।

সূত্র : দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য