
নিজে মজেছিলেন পরকীয়ায়। তার জন্য স্বামী সংসার ছেড়ে পরপুরুষের হাত ধরে চলে যেতে বিন্দুমাত্র ভাবেননি তিনি। কিন্তু সেখান থেকেই মেয়ের সংসারে নজর রাখছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে মেয়েকেও উস্কাছিলেন। স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ক্ষতিপূরণ আর খোরপোষ নিয়ে তাঁর কাছে চলে আসতে। তার জেরে মেয়েও শুরু করেছিল তাঁর স্বামীকে ডিভোর্সের হুমকি দেওয়ার পালা। শেষে নিজের ঘর সংসার ধরে রাখতে শাশুড়িকেই শেষ করে দিল জামাই।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারে। তবে তার রেশ পড়েছে পাশের জেলা বীরভূমেও। কেননা শাশুড়ি খুনের ঘটনায় পুলিশ সিউড়ি থেকেই গ্রেফতার করেছে সেই জামাইকে। তার জেরেই শহরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। জানা গিয়েছে, সিউড়ির বাসিন্দা প্রসেনজিত্ দলুইয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বোলপুরের বাসিন্দা রাজু আগরওয়াল ও লীলা আগরওয়ালের মেয়ে প্রীতির সঙ্গে। প্রসেনজিত্ আর প্রীতির একটি ছেলেও রয়েছে। আবার প্রীতির এক দাদাও রয়েছে।
রাজু আগরওয়ালের সাইকেল মেরামতের দোকান রয়েছে বোলপুর শহরে। আবার প্রীতির দাদা আকাশ বোলপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। এরপরেও স্বামী সংসার ছেড়ে বর্ধমান শহরে সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন লীলাদেবী। সেখানেই তিনি সুদীপ্তের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। তার জেরে সুদীপ্তর সংসারে অশান্তি বাঁধলে ভাতারে লীলার এক আত্মীয়ের বাড়িতে ভাড়া নিয়ে দুইজনে থাকা শুরু করে দেন। আর সেখান থেকেই লীলা মেয়ের সংসারে আগুন লাগানোর কাজ শুরু করে দেন।
প্রসেনজিত্ যখন বুঝতে পারে শাশুড়িই প্রীতিকে উস্কানি দিয়ে দিয়ে তাঁর ঘরসংসার ভাঙার জন্য বলছে তখনই প্রসেনজিত্ তাঁকে খুন করার ফন্দি আঁটে। গত মঙ্গলবার রাতে ভাতার থানার পুলিশ বছর ৪৪’র লীলার দেহ তাদের ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। তখন থেকেই পুলিশের সন্দেহ ছিল সেটি খুন। যদিও তাঁদের সন্দেহ ছিল সুদীপ্তবাবু হয়তো সেই খুন করে থাকতে পারেন। কিন্তু ঘটনার তদন্তে নেমে দেখা যায় প্রসেনজিতের বেশ কিছু কথায় অসংলগ্নতা রয়েছে।
এমনকি তার মোবাইল ঘেঁটে পুলিশ দেখে ঘটনার দিন সে গুসকরা শহরে ছিল। এরপর জেরা করতেই ভেঙে পড়ে সে। সাফ জানায় নিজের ঘর সংসার বাঁচাতেই সে শাশুড়িকে খুন করেছে। এদিনই তাকে গ্রেফতার করে আদালতে তুলেছে পুলিশ।
সূত্র : এই মুহুর্তে



