গোয়েন্দা তথ্যেই তড়িঘড়ি মোদীকে ফোন জেডি ভান্সের, আমেরিকার চাপেই থেমেছে ভারত-পাক সংঘাত?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা থামাতে সক্রিয় হয়েছে আমেরিকা, তবে এটা শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সদিচ্ছার ফল নয়। এর পেছনে ছিল এক গোপন গোয়েন্দা বার্তা, যা পাওয়ার পরই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করেন। এই আলাপচারিতার পরই সংঘর্ষ বিরতির সিদ্ধান্তে রাজি হয় ভারত।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছিল আমেরিকা। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর সীমান্তে শুরু হয় সংঘর্ষ, যার খুঁটিনাটি আমেরিকার কাছে ছিল। এর মধ্যেই, গত শুক্রবার একটি ‘উদ্বেগজনক’ ও ‘চাঞ্চল্যকর’ তথ্য হাতে আসে জেডি ভান্সের, যা গোয়েন্দাদের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এই তথ্য পাওয়ার পরই মোদীকে ফোন করে সতর্ক করেন তিনি। সিএনএন এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
উক্ত গোপন তথ্যটি এতটাই সংবেদনশীল ছিল যে আমেরিকার প্রশাসন তা প্রকাশ করেনি, তবে সূত্র বলছে, সেই তথ্যের গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল যে আমেরিকাকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয় ভারত-পাক বিরোধে। উল্লেখযোগ্যভাবে, একদিন আগেও জেডি ভান্স বলেছিলেন “ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষে আমাদের কিছু করণীয় নেই”, অথচ ঠিক পরদিনই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি হবে।
সিএনএনের দাবি অনুযায়ী, সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পর জেডি ভান্স প্রথমে বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানান এবং এরপর শুক্রবার দুপুরে মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সেই আলাপচারিতায় ভান্স জানান, “সংঘাত যদি সপ্তাহান্ত পর্যন্ত চলে, তবে তা হঠাৎ বিস্ফোরক মোড় নিতে পারে।”
তিনি মোদীকে বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত এবং সেই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন। এমনকি একটি প্রাথমিক সমঝোতার রূপরেখাও ভাগ করেন মোদীর সঙ্গে। সূত্র অনুসারে, এই ফোনালাপের পর মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তারা রাতভর দুই দেশের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।
পরিশেষে, শনিবার বিকেলেই ভারত ও পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতিতে সম্মত হয়। আজ, “১২ মে”, দুই দেশের ডিজিএমওরা ফের আলোচনায় বসবেন এবং সংঘর্ষ বিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।



