
জঙ্গলমহলের লাল মাটিতে প্রখর গ্রীষ্মের তেজ। কিন্তু সেই তাপকেও হার মানাল গ্রাম্য চড়ুইভাতির আমেজ। বৃহস্পতিবার বেলপাহাড়ির কাঁকড়াঝোড় গ্রামে ভোট-উৎসবের পাশাপাশি চলল এলাহি ভূরিভোজ। তবে এই ভূরিভোজের পাতেই উঠে এল অভাব আর এক বুক প্রত্যাশার কথা।
কাঁকড়াঝোর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথ থেকে কিছুটা দূরেই স্থানীয় কিছু পরিযায়ী যুবকের তত্ত্বাবধানে বসেছে খিঁচুড়ি আর মুরগির মাংসের আসর। সেই আসরে ভিড় জমিয়েছেন এলাকার মানুষ। সেখান থেকেই দেখা গেল বৃদ্ধা পার্বতী বালাকে, যিনি বালতি ভরে খিঁচুড়ি নিয়ে বাড়ির পথে। দু’বছর আগে স্বামী মারা গিয়েছেন, অথচ আজও জোটেনি বিধবা ভাতা কিংবা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। ভাঙা ঘরে দিন কাটলেও আবাস যোজনার তালিকায় নাম নেই। তাঁর কথায়, “না পেয়েছি বাড়ি, না পাই ভাতা।”
আরও পড়ুন :: ‘২৩০ আসন পাবে তৃণমূল, বীরভূমেও সব সিট…’, ভোট দিয়েই তৃণমূলের ‘ম্যাজিক ফিগার’ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অনুব্রত
গ্রামের এই ক্ষোভের ছবি আরও ফুটে উঠেছে ‘পরিযায়ী’ যন্ত্রণায়। কাঁকড়াঝোড়ের ঘরে ঘরে এখন ভিন রাজ্যের হাতছানি। কেউ গিয়েছেন গুজরাট বা দাদরা নগর হাভেলিতে, কেউবা বেঙ্গালুরু কিংবা পন্ডিচেরিতে। গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণচন্দ্র সিং এখন গুজরাটের শ্রমিক। রমেশ মুড়া কাজ করেন পন্ডিচেরিতে এক কন্ট্রাক্টরের অধীনে। সোমনাথ মুড়া গিয়েছেন বেঙ্গালুরুতে, আর বাবুলাল মুড়া কর্ণাটকের অটো পার্টসের কারখানায় কাজ করেন।
এঁদের সবার মুখেই এক কথা— এলাকায় কাজ নেই। বছরের পর বছর বাড়ির বাইরে পড়ে থাকতে হয় সংসার চালানোর জন্য। তাঁদের দাবি, “বাইরের রাজ্যে কাজ করেই এ রাজ্যের সংসার চলছে। যাতে নিজের এলাকায় কাজ পাওয়া যায়, সেই প্রত্যাশাতেই ভোট দিয়েছি’। যদিও আয়োজক শিবিরের দাবি, এটি নিছকই একটি সামাজিক প্রীতিভোজ।



