রাজনীতিরাজ্য

ভবানীপুরে বিজেপির জয়ের দাবি! ওয়ার্ডভিত্তিক হিসেব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভবানীপুরে বিজেপির জয়ের দাবি! ওয়ার্ডভিত্তিক হিসেব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী - West Bengal News 24

ভোটপর্ব শেষ হলেও দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ নেই এবং স্ট্রংরুম পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই এবার ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রকাশ্যে দাবি করে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), যিনি দলীয় বৈঠকে ভবানীপুরের সম্ভাব্য ফল নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এবং নির্দিষ্ট ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফলের পূর্বাভাস দেন।

এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বিকেলে ভবানীপুর বিধানসভার নির্বাচনী কার্যালয়ে এক ঘরোয়া বৈঠকে অংশ নেন তিনি, যেখানে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটদানের পরিসংখ্যান এবং বুথভিত্তিক ভোটের হিসাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি, যাতে গণনার আগে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক চিত্র তৈরি করা যায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে ভবানীপুরের একাধিক ওয়ার্ড যেমন ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রদত্ত ভোটের হার এবং প্রবণতা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন তিনি এবং কোথায় কত ভোট পড়েছে, কোন বুথে কোন ধরনের ভোটের প্রবণতা দেখা গিয়েছে, তা বিশ্লেষণের চেষ্টা করেন, যা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন :: গণনাকেন্দ্র ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: ১৬৩ ধারা জারি করে জমায়েতে কড়া নিষেধাজ্ঞা কলকাতার পুলিশ কমিশনারের!

বৈঠকে তাঁকে জানানো হয় যে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ১ লক্ষ ৩৯ হাজারের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি একটি নির্দিষ্ট বিশ্লেষণ তুলে ধরেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডেই মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারেন, এবং বাকি ওয়ার্ডগুলিতে বিজেপি প্রাধান্য পেতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

এই প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের কথা উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে ওই ওয়ার্ডেই তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবধান বাড়াতে পারেন, কারণ সেখানে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্কের প্রভাব বেশি বলে তাঁর বিশ্লেষণ, এবং সেই সমীকরণের ভিত্তিতেই তিনি বলেন যে ওই ওয়ার্ড থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার ভোটের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

তবে তাঁর দাবি অনুযায়ী, বাকি সাতটি ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকবে এবং সেই ব্যবধানের উপর ভিত্তি করেই তিনি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন, যা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এবং দলের কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যেও এই ধরনের মন্তব্য করা হয়ে থাকে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।

এই বৈঠক শেষে তিনি সরাসরি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে যান এবং সেখানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, যেখানে আগের রাতে মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং সেই প্রসঙ্গেই তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান।

আরও পড়ুন :: ভোটগণনায় বড় মোড়! নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল, শনিবার সকালেই বিশেষ শুনানি

তিনি বলেন যে কোনও প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্টের এত দীর্ঘ সময় স্ট্রংরুমের কাছে থাকা উচিত নয় এবং এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী বিধির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যদিও তিনি সরাসরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না এনে বিষয়টিকে ‘হ্যান্ডবুকের বাইরে’ বলে মন্তব্য করেন, যা একটি পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশেষ করে ভোট-পরবর্তী সময়ে স্ট্রংরুমকে ঘিরে নজরদারি, উপস্থিতি এবং নিয়ম মেনে চলা নিয়ে যে সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের মন্তব্য এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া নির্বাচনী পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে এবং গণনার আগে রাজনৈতিক আবহকে উত্তপ্ত রাখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফল ঘোষণার আগে এই ধরনের ওয়ার্ডভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং আত্মবিশ্বাসী দাবি সাধারণত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যা একদিকে কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, অন্যদিকে জনমনে একটি নির্দিষ্ট প্রত্যাশা তৈরি করার চেষ্টা করে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করে গণনার উপর এবং সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তাদেরই দায়িত্ব থাকে গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমস্ত নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, যাতে কোনও পক্ষই ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় থাকে।

সমগ্র ঘটনাপ্রবাহটি দেখায় যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরেও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেমে থাকে না, বরং গণনার দিন পর্যন্ত তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেতে থাকে এবং প্রতিটি পদক্ষেপই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার আওতায় চলে আসে, যা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের আগে পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তেজনাকে বজায় রাখে এবং জনমনে কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button