মৃত্যুকামনার অভিযোগে হুমায়ুনকে নিশানা, রেজিনগরে ‘গণদেবতা’র কাছে বিচার চাইলেন শুভেন্দু
ওয়েবডেস্ক

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুমায়ুনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতা ছাড়িয়ে তাঁর মৃত্যুকামনা করা হয়েছিল। পাল্টা হুমায়ুনের দাবি, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করেননি; তাঁর বক্তব্যের অর্থ ছিল অত্যাচার ও অত্যাচারীর অবসান।
১ অক্টোবর রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। সেখানেই তিনি হুমায়ুনের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে মতবিরোধ, তর্ক ও সমালোচনা থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণের ক্ষেত্রেও একটি সীমারেখা থাকা উচিত।
হুমায়ুনের মন্তব্য নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?
সভায় শুভেন্দু বলেন, হুমায়ুন কবীর প্রতি শুক্রবার প্রার্থনা করে মুখ্যমন্ত্রী যেন দ্রুত ‘উপরওয়ালার কাছে চলে যান’, এমন মন্তব্য করেছিলেন। এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেন না।
এর পরেই রেজিনগরের ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দুর প্রশ্ন, “এই লোককে ভোট দেবেন?” তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, “বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার।”
হুমায়ুনের পাল্টা ব্যাখ্যাও সামনে
তবে ঘটনাটির অন্য দিকও রয়েছে। ১ অক্টোবরই হুমায়ুন কবীর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যুকামনা করেননি। তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্যের অর্থ ছিল অত্যাচার ও অত্যাচারীর অবসান চাওয়া।
অর্থাৎ, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বক্তব্যটির ব্যাখ্যা নিয়ে দুই নেতার অবস্থান আলাদা। শুভেন্দু সেটিকে মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা হিসেবে তুলে ধরেছেন, আর হুমায়ুন তা অস্বীকার করে নিজের বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
হুমায়ুনের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও আক্রমণ
রেজিনগরের সভায় শুধু সাম্প্রতিক মন্তব্য নয়, হুমায়ুনের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, হুমায়ুন বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস, বিজেপি এবং তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছেন এবং পরে সেই দলগুলির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন।
শুভেন্দু তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানকে সামনে রেখে রাজনীতি এবং বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগও তোলেন তিনি। এগুলি অবশ্য শুভেন্দুর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; প্রতিবেদনে সেগুলিকে স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
নওদায় পাঁচ মাসে কী কাজ হয়েছে, প্রশ্ন শুভেন্দুর
হুমায়ুন কবীর বর্তমানে নওদার বিধায়ক। রেজিনগরের সভা থেকে তাঁর বিধানসভা এলাকায় কাজের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু।
তাঁর দাবি, নওদা থেকে বিধানসভায় যাওয়ার পর পাঁচ মাসে হুমায়ুন এলাকার জন্য উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেননি। শুভেন্দু বলেন, পাঁচ মাসে “একটা ইটই গাঁথতে পারেননি” এবং আগামী ৫৫ মাসেও পারবেন না।
এই বক্তব্যটি শুভেন্দুর রাজনৈতিক দাবি; এর সমর্থনে সভায় কোনও নির্দিষ্ট সরকারি প্রকল্পের পরিসংখ্যান বা নথি তিনি তুলে ধরেছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
কেন রেজিনগরে উপনির্বাচন?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর এবং নওদা—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের ফল অনুযায়ী, রেজিনগরে তিনি ১,২৩,৫৩৬ ভোট পেয়েছিলেন এবং বিজেপির বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন ৬৪,৬৬০ ভোট।
দুই আসনে জয়ী হওয়ার পর হুমায়ুন রেজিনগর আসনটি ছেড়ে নওদা আসনটি রাখেন। সেই কারণেই রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় রেজিনগর ও নন্দীগ্রর—দুই কেন্দ্রেই ৬ অক্টোবর ভোট এবং ৯ অক্টোবর গণনার দিন নির্ধারিত হয়েছে।
রেজিনগরে উপনির্বাচনের লড়াই
উপনির্বাচনে হুমায়ুনের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছে। সেপ্টেম্বরেই তিনি মনোনয়ন জমা দেন।
অন্যদিকে, রেজিনগরে বিজেপির হয়ে শাখারভ সরকারকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছেন দলীয় নেতৃত্ব। ফলে হুমায়ুনকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কও উপনির্বাচনের প্রচারের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর ফল
নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৬ অক্টোবর ২০২৬। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর ২০২৬।
ফলে প্রচারের শেষ পর্যায়ে দুই পক্ষের রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ভোটারদের সামনে স্থানীয় উন্নয়ন, প্রার্থী এবং এলাকার বিভিন্ন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এখন নজর ৬ অক্টোবরের ভোটগ্রহণের দিকে। তার আগে রেজিনগরকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারী, হুমায়ুন কবীর এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হুমায়ুনের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি রেজিনগরের উন্নয়ন, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং স্থানীয় ভোটের হিসাবই উপনির্বাচনের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকছে।
FAQ
রেজিনগর উপনির্বাচন কবে?
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে ভোট হবে ৬ অক্টোবর ২০২৬। গণনা হবে ৯ অক্টোবর।
রেজিনগরে কেন উপনির্বাচন হচ্ছে?
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—দুই আসনে জেতার পর হুমায়ুন কবীর রেজিনগর আসনটি ছেড়ে নওদা আসনটি রাখেন। ফলে রেজিনগর আসনটি শূন্য হয়।
শুভেন্দু অধিকারী রেজিনগরে কী বলেছেন?
হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার।”
হুমায়ুন কবীর কি শুভেন্দুর মৃত্যুকামনা করেছিলেন?
হুমায়ুনের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে শুভেন্দু মৃত্যুকামনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে ১ অক্টোবর হুমায়ুন নিজে বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করেননি এবং তাঁর বক্তব্যের অর্থ ছিল অত্যাচার ও অত্যাচারীর অবসান চাওয়া।
রেজিনগরে হুমায়ুনের দলের প্রার্থী কে?
আম জনতা উন্নয়ন পার্টি রেজিনগর উপনির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছে।



