রাজ্য

‘বিচ্ছেদের পরেও সৌমিত্রর নামেই সিঁদুর পড়বো’ বললেন সুজাতা

'বিচ্ছেদের পরেও সৌমিত্রর নামেই সিঁদুর পড়বো' বললেন সুজাতা

অগ্নিপরীক্ষা’ নাকি ‘সাত পাকে বাঁধা’। ‘পথে হল দেরী’ নাকি ‘হার মানা হার’। ‘এক চিলতে সিঁদুর’ নাকি ‘সিঁদুরের দিব্যি’। ঠিক কী নাম দেওয়া যেতে পারে এই হাইভোল্টেজ মেলোড্রামাকে। প্রশ্নটা উঠেই গেল সৌমিত্র-সুজাতা বিচ্ছেদ কাণ্ডে।

কারণ সৌমিত্রের ডিভোর্স বার্তার পরেও সুজাতার দৃঢ় জবাব, ‘আমি ওর নামে সিঁদুর পরি, ওর নামেই পরবো। চিরকাল সৌমিত্রের স্ত্রী হিসাবেই এই শাঁখাসিঁদুর পরে থাকবো। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে কোনও টিএমসি, বিজেপি আসতেই পারে না।

আমি জানি না ওকে কে বা কারা এই বুদ্ধি দিচ্ছে। আমি যদি বলি আমি ডিভোর্স দেব না তাহলে কোনও আদালত কোনও আইনজীবির ক্ষমতা নেই সেই ডিভোর্স দেওয়ার। যা আমার তা একান্তই আমার। আমি কেন তা অন্যের হাতে তুলে দিতে যাব।’

টলিউড কেন বলিউডের কোনও চিত্রনাট্যকারও তাঁর নায়িকার মুখে এত শক্তিশালী ডায়লগ বসিয়েছিল কিনা বাঙালি ভেবে ভেবেও কূলকিনারা পায়নি।

এদিন তৃণমূল ভবনে গিয়ে সুজাতার জোড়াফুল শিবিরে যোগদান বঙ্গ রাজনীতিতে রীতিমত ভূমিকম্প ঘটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তার আফটার শক যে এভাবে দেখা যাবে সেটা কেউ ভাবেইনি। কারও মাথাতেও আসেনি। সুজাতা দলবদলের কারন হিসাবে বিজেপির মনোভাব ও গেরুয়া শিবিরের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

কোথাও একবারের জন্যও স্বামীকে কাঠগড়ায় তোলেননি। অথচ সৌমিত্র এমনভাবে কেঁদে ভাসিয়ে ডিভোর্সের প্রসঙ্গ তুললেন যেন দেখে মনে হবে সেটা হয়ে গেলেই তাঁর সব ইচ্ছাপূরণ হয়ে যাবে। হতেই পারে কেউ হয়তো অপেক্ষা করছে। জীবনে সাফলু পেয়ে অনেকেরই মাথা ঘুরে যায়।

পুরাতন সব কিছু ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নতুনকে আঁকড়ে ধরতে চায়। সৌমিত্রও হয়তো সেই পথের পথিক হতে চান। কিন্তু এখন যা অবস্থা সুজাতা ডিভোর্সে রাজী না হলে সৌমিত্রের পক্ষে অন্য কাউকে বিয়ে করা সম্ভবই নয়।

আরও পড়ুন: নাচ গান করা, কাপড়ের ব্যবসা করা মহিলারা বিজেপিতে নেত্রী হয়ে যাচ্ছেন: সুজাতা

এদিন সৌমিত্র যেভাবে এক নিমেষে বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন তাতে রীতিমত বিস্মিত ও আহত হয়েছেন সুজাতা। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, তৃণমূলে যোগদানকারী স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য বিজেপিই সৌমিত্রকে চাপ দিচ্ছে।

এদিন ডিভোর্সের কথা জানতে পেরে পাল্টা সুজাতা জানিয়ে দেন, ‘আমি সৌমিত্রের নামেই সিঁদুর পরেছি। আগামী দিনেও পরব। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্বর্গে তৈরি হয়।

স্বর্গে তৈরি হওয়া সেই সম্পর্ক ভেঙে দিতে পারে মর্ত্যের কোনও রাজনৈতিক দল? আমরা রাম-সীতার মত, আমরা লক্ষ্মী-নারায়ণের মত। কেউ আমাদের সম্পর্ক ভাঙতে পারে না। আজও আমি সৌমিত্রকে ভালবাসি। ওর নামে সিঁদুর, নোয়া পরেছি। আজীবন এসব আমার সঙ্গে থাকবে।

ওর ভালো হোক। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ও যেন মুখ্যমন্ত্রী হয়। ওর এই আত্মত্যাগ যেন বিজেপি না ভোলে। সুজাতা তোমার জন্য সবসময় আছে। আজ যে মানুষটার জন্য সব করলাম, তাকে ভালবাসি, বাসব। সৌমিত্র তোমার স্বপ্ন পূরণ হোক। কোনও দলকেই নিজের সংসারে টেনে এনো না।

সংসারে থেকে সম্মান পেলাম না, পার্টি থেকেও না, আর কি ঘরে লক্ষ্মী থাকে? দশটা মাস যোগাযোগ রাখেনি। সৌমিত্রের সঙ্গে এখনও কথা হয়নি। রাজনীতির জন্য আমায় ছেড়ে দেয়, তবে আমি কী করব! আমি তো বলিনি তা।’

আর সুজাতার এই আবেগ জেনেও সৌমিত্র সমস্যা সমাধান অপেক্ষা তা আরও বাড়িয়ে দিয়ে তোপ দেগেছেন তৃণমূলকে। বলেছেন, ‘তৃণমূল এত বড় চোর! বালি চুরি করত, কয়লা চুরি করত, গরু চুরি করত, শেষে আমার বউকেও চুরি করলো।

শুভেন্দু দা বলছেন, মা লক্ষ্মীকে ওরা ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দেবে। আমার অনুরোধ দেহেপ্রাণে মারবেন না।’

 

সুত্র: এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন ::

Back to top button