
বহাল তবিয়তে আছেন আল কায়দা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরি। কিছুদিন আগে তাঁর মৃত্যুর খবর চাউর হলেও তা ভুয়ো। আপাতত আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে দলের একটা বড় অংশের সঙ্গে রয়েছেন তিনি। এমনটাই জানাল রাষ্টসঙ্ঘের রিপোর্ট। শুক্রবার প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়, আল কায়দা সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রচুর সদস্য আফগানিস্তানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিন্তু পড়শি পাকিস্তানের সীমানায় সংগঠনের কোর গ্রুপ কারবার চালায়।
সেখানে বসেই দলের ভারতীয় শাখা ‘আল কায়দা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’-এর সঙ্গে আগামী পরিকল্পনা ঠিক করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের বিশ্লেষকদের দাবি, আল জাওয়াহিরিও এই বিশেষ দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ায় তাঁকে দলীয় কর্মসূচিতে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। বড় ধরনের কোনও হামলার ছক না থাকলেও এই কুখ্যাত জঙ্গিগোষ্ঠী আপাতত আফগানিস্তানে নিরাপদ ঘাঁটি তৈরিতে ব্যস্ত। চলছে পরবর্তী টার্গেট ঠিক করার কাজও।
মোট কথা, জোরদার নাশকতা চালানোর আগে আপাতত নিজেদের গুছিয়ে নিতে চাইছে তারা। এমনটাই দাবি রাষ্ট্রসংঘের। অন্যদিকে আল কায়দার দলের সাম্প্রতিক সদস্যদের সংখ্যা আর পরিচয় নিয়েও খুঁটিনাটি তথ্য বেরিয়ে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দলের সিংহভাগ জঙ্গিই আফগান। বাকিরা অনেকেই জন্মসূত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দা। পাশাপাশি আরেক জঙ্গিগোষ্ঠী তালিবানের সঙ্গে আল কায়দার যোগাযোগ নিয়ে আশঙ্কা দানা বেঁধেছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, ইদানীং দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে নাশকতার ছক কষতে আল কায়দার উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে তালিবান। বাইরের দেশের জঙ্গিদের নাম-ঠিকানা নথিভুক্ত করার পদ্ধতিও চালু করা হয়েছে। এমনকী আল কায়দার ভারতীয় সংগঠনের উপরেও ছড়ি ঘোরাচ্ছেন তালিবান নেতারা। মূলত কান্দাহার, হেলমন্দ এবং নিমরুজ প্রদেশ থেকে অপারেশন চলে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত এই ভারতীয় শাখার প্রধানের পদে রয়েছেন ওসামা মাহমুদ। কিন্তু খাতায়-কলমে তাঁর নাম তোলা হয়নি।
প্রাক্তন সুপ্রিমো আসিম উমরের মৃত্যুর পর কুর্সিতে বসেন ওসামা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর মে মাস থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আল কায়দা গুটিয়ে ছিল। কারণ, একের পর এক জঙ্গি দমন অভিযানে দলের মাথা ও প্রধান নেতারা নিহত হন। তালিবানের অন্দরেও একই ছবি। তাই উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে জাল ছড়াতে পারছিল না কোনও দলই। সম্প্রতি রণকৌশলে বদল আনা হয়েছে। হাক্কানি নেটওয়ার্ককে ঢাল করে আল কায়দার সঙ্গে গাঁটছড়া আরও সুদৃঢ় করেছে তালিবান। পাশাপাশি আদর্শগত মিল, দুর্যোগের দিনে পাশে দাঁড়ানো এমনকী দলের সদস্যদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি করে এর বনিয়াদ আরও মজবুত করা হচ্ছে।
সুত্র : দ্য ওয়াল



