
গ্রামের এক যুবক যুবতী প্রণয় ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আর পাঁচটি সাধারণ মানুষের মতো তারাও একে ওপরের কাছাকাছি আসতে চেয়েছিল। কিন্তু বাধা ছিল সমাজ। তাই কখনো গ্রামের জঙ্গলে বা ক্ষেতের আড়ালে দুটি ঠোঁট নিজেদের মধ্যে উষ্ণতা বিনিময় করত। এলাকার এক যুবতীকে এই অবস্থায় দেখে সালিশি সভার আয়োজন করলেন গ্রামের সেই মাতব্বর। সভাতেই ঘোষণা হল বিয়ের। বলপূর্বকভাবে বিয়েও দেওয়া হল। এরপরই আত্মঘাতী হলেন যুবক।
ঘটনাটি মালদার মানিকচক গ্রামপঞ্চায়েতের মনকুট বাঁধ এলাকায় ঘটেছে। জানা গিয়েছে, গ্রামের বাসিন্দা ২০ বছরের মানিক মন্ডল গ্রামের এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সম্পর্ক থেকে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একে অপরের সঙ্গে মেলা মেশা ঘুরতে যাওয়া চলতে থাকে।
এমনই গতকাল বিকেলে দুজনে বেরিয়েছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে গ্রামেরই একটি বাগানে গিয়ে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে যায় তারা। সেখানেই দুজনকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখে ফেলেন গ্রামের এক বাসিন্দা। এরপরই গ্রামের সমস্ত বড় মাথারা মিলে সালিশি সভায় বসেন। সেখানেই এই যুগলকে বিয়ের নিধান দেন তারা।
শুধু তাই নয়, গ্রামের এক মন্দিরে নিয়ে গিয়ে তাদের বিয়েও দেওয়া হয়। তারপর তাদেরকে প্রেমিক যুবক মানিক মণ্ডলের বাড়িতে দিয়ে আসা হয়। কিন্তু যুবকের মা এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তিনি জানান, এই সম্পর্কে তাঁদের কোনও সায় নেই। তাছাড়া ওই যুবকের মা জানান যেহেতু মানিকের বাবা ভিন রাজ্যে কর্মরত সেহেতু তিনি না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু গ্রামের মাতব্বররা জোর করে মানিকের মাকে বিষয়টিতে রাজি করান। এই নিয়ে যুবকের সঙ্গে গ্রামের লোকজনের বচসাও হয়।
পরদিন ফের ওই যুবকের সাথে মানিকের কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই অভিমানে আত্মঘাতী হন মানিক। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে মানিকচক থানার পুলিশ। জানা গেছে মানিকচক গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য আশিষ মন্ডলের নেতৃত্বে এই সালিশি সভা করা হয়। পুলিশ মৃত মানিক মন্ডলের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
সুত্র : এই মুহুর্তে



