
ভরদুপুরে নিজের বাড়িতেই চরম হেনস্থার শিকার এক গৃহবধূ! স্নান করার সময় বাথরুমে উঁকি মারার পাশাপাশি গোপনে ভিডিও রেকর্ডিং (CCTV/Secret Camera Video) করার অভিযোগ উঠল খোদ ঘরের পরিচারকের বিরুদ্ধে। নদিয়ার নবদ্বীপে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমাজেই তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করলেও, এই ঘটনার পেছনে বড় কোনো ব্ল্যাকমেইলিং চক্র কাজ করছে কিনা, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপ থানার অন্তর্গত বনোচারি এলাকায়। ওই এলাকার এক গৃহবধূর বাড়িতেই কাজ করত অভিযুক্ত যুবক। প্রতিদিনের মতো গত শনিবার দুপুরেও ওই বধূ স্নান করতে বাথরুমে যান।
অভিযোগ, গৃহকর্ত্রী বাথরুমে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিঃশব্দে সেখানে পৌঁছায় ওই পরিচারক। এরপর বাথরুমের ফাঁক দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করে সে। শুধু উঁকি মারাই নয়, নিজের মোবাইল ফোন বের করে ওই বধূর স্নানের গোপন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে শুরু করে ওই ‘গুণধর’ যুবক।
ভিডিও রেকর্ড করার সময় আচমকাই বিষয়টি টের পেয়ে যান ওই গৃহবধূ। বাথরুমের ভেতর থেকেই তিনি চিৎকার শুরু করতেই পরিস্থিতি বদলে যায়।
চিৎকার শুনে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা: বধূর চিৎকার শুনে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত বাথরুমের দিকে ছুটে আসেন।
পালানোর আগেই পাকড়াও: অভিযুক্ত পরিচারক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরিবারের সদস্যরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং ঘরে আটকে রাখেন।
পুলিশে খবর: এরপর আর দেরি না করে সরাসরি নবদ্বীপ থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পর নির্যাতিতা গৃহবধূ নবদ্বীপ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বনোচারি বাগান এলাকা থেকে অভিযুক্ত যুবককে সরকারিভাবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত রবিবার ধৃতকে কৃষ্ণনগর বিশেষ আদালতে তোলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতের কাছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও জানানো হতে পারে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নবদ্বীপ জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তদন্তকারীরা মূলত ৩টি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন:
ভিডিওর উদ্দেশ্য কী ছিল? ধৃত যুবক কি কেবলই নিজের বিকৃত মানসিকতা চরিতার্থ করতে এই ভিডিও করেছিল, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে?
ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ছক? এর আগেও কি সে এইভাবে কোনো মহিলার গোপন ভিডিও রেকর্ড করে টাকা আদায়ের জন্য ব্ল্যাকমেইল করেছে?
নেপথ্যে কি কোনো চক্র রয়েছে? এই ভিডিওগুলো কি কোনো পর্নোগ্রাফি সাইটে বা মোটা টাকার বিনিময়ে অন্য কোথাও পাচার করার পরিকল্পনা ছিল? এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে নবদ্বীপ থানার পুলিশ।



