
পুলিশের কাজে বাধা, অসাংবিধানিক ভাষার প্রয়োগ– এই সমস্ত অভিযোগ এর পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল নেতা-দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করল ত্রিপুরা পুলিশ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক-সহ তালিকায় নাম রয়েছে সাংসদ দোলা সেন, মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কুণাল ঘোষ ও সুবল ভৌমিক। মূলত, ত্রিপুরার খোয়াই থানার ভিতরে ঘটনার জেরেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
ত্রিপুরায় আমবাসায় তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা, জয়া দত্তদের ওপর হামলা হয়। পুলিশ এসে অভিযুক্তদের কিছু না বলে আক্রান্ত তৃণমূল নেতা নেত্রী-সহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের ছাড়াতে খোয়াই থানায় যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, দোলা সেন, কুণাল ঘোষরা।
পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের বাদানুবাদ চলে তাঁদের। একই সময় থানার বাইরে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বিজেপি কর্মী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও মহামারী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না পর্যন্ত থানা ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অবশেষে তৃণমূল নেতা, নেত্রী, কর্মীদের জামিনে মুক্তি মিললে তাঁরা ফিরে আসেন। এরপরই তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে একাধিক অভিযোগ তুলে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল ত্রিপুরা পুলিশ।
ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সরাসরি ত্রিপুরা পুলিশকে ‘ছিঁচকে চোর’ বলেই সম্বোধন করলেন। তাঁর কথায়, ‘ওরা ভয় পেয়েছে। তাই হেনস্থা করতে মামলা রুজু করেছে। বিজেপির শিখিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। সরকারি কাজে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। আমরা থানায় জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কী কী ধারা রয়েছে।
থানা থেকে জামিন সম্ভব কিনা, সেটাই আমাদের তরফে জানতে চাওয়া হয়েছিল।’ তৃণমূল নেতার মতে, ত্রিপুরা পুলিশকে শুধুমাত্র তাদের কর্তব্যটুকু মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তারা দায়িত্ব পালনে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। ‘সবচেয়ে বড় কথা, আদৌও কোনও অভিযোগ থাকলে, তাহলে সেদিন কেন বলা হয়নি? জামিন হয়ে গেল, তারপর ছিঁচকে চোরের মতো বিজেপির নির্দেশে রাতের বেলা মামলা রুজু করছে। হাস্যকর কাণ্ডকারখানা।’
সূত্র : এই মুহুর্তে



