জাতীয়

অমানবিক! চোর সন্দেহে মারধর, তারপর চলন্ত ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে দিল জনতা, ভাইরাল ভিডিও

বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের নিমুচ অঞ্চলে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করে জনতা। তাঁকে বেধড়ক মারধর করার পরে পা দু’টি দড়ি দিয়ে একটি ট্রাকের পিছনে বেঁধে দেওয়া হয়। ট্রাকটি তাঁকে টানতে টানতে রাস্তার ওপর দিয়ে নিয়ে যায় কিছু দূর। এর ফলে ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর জনতা ১০০ নম্বরে ডায়াল করে পুলিশকে জানায়, একটা চোর ধরা পড়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। তাঁকে কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে রেফার করা হয় নিমুচ জেলা হাসপাতালে। হাসপাতালে জানানো হয়, নিয়ে আসার আগেই ওই ব্যক্তি মারা গিয়েছেন। নিমুচ জেলার জেতিয়া গ্রামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। তাকে মারধরের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ জানায়, মৃত ব্যক্তির নাম কানহা ওরফে কানহাইয়া ভিল।

আরো পড়ুন : কাবুল বিস্ফোরণে জড়িতদের মধ্যে ১৪ জন কেরলের, চিন্তায় ভারতীয় গোয়েন্দারা

তিনি বানাদা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নিমুচ জেলার পুলিশ সুপার বলেন, ‘গণধোলাইয়ে জড়িত আটজনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে পাঁচজন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও-র সাহায্যেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা গিয়েছে।’ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন ও তফসিলী জাতি-উপজাতিদের ওপরে নির্যাতন রোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এর আগে রাজস্থানে গোরক্ষকদের গণধোলাইয়ে পেহলু খান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুতে দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

৫৫ বছরের পেহলু খান ছিলেন মেওয়াতের নুয়া জেলার জয়সিংপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রমজানের সময় বাড়তি দুধ উত্‍পাদনের জন্য গরু কিনতে গিয়েছিলেন। পথে গোরক্ষকরা তাঁকে ঘিরে ধরে। তিনি তাদের গরু কেনার রসিদ দেখান। তাতেও দুষ্কৃতীরা ছাড়েনি। লাঠি ও রড নিয়ে তাঁর ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গণধোলাইয়ে মৃত্যু নিয়ে শীঘ্র বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

আরো পড়ুন : হরিয়ানায় কৃষক বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ ‘রক্তস্নানে মাথা নত দেশের’, দেখুন ভিডিও

শিবসেনার প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী প্রশ্ন তোলেন, যে বুদ্ধিজীবীরা নিজেদের উদারপন্থী বলে পরিচয় দেন, তাঁরা এখন চুপ কেন? ২০১৯ সালে রাজস্থান সরকার চার্জশিট দেয় পেহলু খানেরই নামে। অভিযোগ, তিনি গরু পাচারে জড়িত ছিলেন।

চার্জশিট তৈরি করা হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল যে ট্রাকে পেহলু খান গরু পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ, তার মালিকেরও নাম আছে চার্জশিটে। গত কয়েকমাস আগে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। তারপরে গত ২৯ মে বেহরোরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে দাখিল হয়েছে চার্জশিট। তাতে পেহলু খান বাদে তাঁর দুই ছেলে ইরশাদ ও আরিফেরও নাম আছে।

সূত্র : দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button