কলকাতা

মমতাকে বাদ দিয়ে কেন মেট্রোর উদ্বোধন, হুঁশিয়ারি মদনের!

মেট্রোর উদ্বোধনে আমন্ত্রণ-বিতর্ক অব্যাহত। এ বার নতুন মাত্রা যোগ করলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের মধ্যে কেন ‘চুপিচুপি’ শিয়ালদহ থেকে সেক্টর ফাইভ যাওয়ার মেট্রোর উদ্বোধন হল, এই প্রশ্ন তুলে কলকাতার মেট্রোর ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন মদন।

রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী মদন মেট্রো কর্তৃপক্ষকে ‘নির্লজ্জ’, ‘কানকাটা’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, মমতাকে অপমানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে মেট্রো স্টেশনগুলিতে বিক্ষোভ দেখাবেন তাঁরা।

বুধবার বিকেলে মেট্রো ভবনের সামনে দলীয় কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত হন মদন। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী যখন উত্তরবঙ্গ সফরে তখন তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে একটি চিঠি পাঠিয়ে দায় সেরেছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

মদনের কথায়, ‘‘রাতের অন্ধকারে চুপিচুপি শিয়ালদহ মেট্রোর উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বিশ্বনেতাদের মধ্যে যদি বাইডেন, পুতিন কিংবা নরেন্দ্র মোদীর নাম আসে, মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও আসবে। সেই মমতাকে অপমান করা হয়েছে!’’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার শিয়ালদহ থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের মেট্রোর উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। সেই অনুষ্ঠানে কেন মমতা–সহ তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা অনুপস্থিত, এই প্রশ্নের উত্তরে স্মৃতি জানান, তিনিও অনেক দেরিতে আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলেন।

কেন রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি এলেন না, সেটা তিনি বলতে পারবেন না। এই প্রসঙ্গে মদনের কটাক্ষ, ‘‘স্মৃতি ইরানি নিজের এডুকেশনের কাগজ বের করতে পারেননি। ওঁকে নিয়ে কী বলব!’’ এর পর তাঁর সংযোজন, ‘‘চাইলেই নতুন মেট্রোর উদ্বোধন বন্ধ করে দিতে পারতাম। কিন্তু মানুষের পরিষেবা বন্ধ করতে চাই না আমরা। তবে আরও ভাল পরিষেবার দাবিতে আন্দোলন করব।’’

মেট্রোর পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন মদন। তাঁর কথায়, ‘‘একটু বৃষ্টি পড়লেই সব মেট্রো স্টেশনে বাতানুকূল যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত দু’বছর মেট্রো ট্র্যাকে কোনও রক্ষণাবেক্ষণও হচ্ছে না। এখন কলকাতা মেট্রোয় কোনও বড় দুর্ঘটনা হলে তার জন্য দায়ী থাকবেন কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্র।’’

এর পর মদনের দাবি, দমদম থেকে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মেট্রো স্টেশনেই সব ট্রেন যায় না। কামারহাটির বিধায়কের দাবি, কবি সুভাষ থেকে আসা সব মেট্রোকে দক্ষিণেশ্বর ছুঁতে হবে।

মদনের অভিযোগ নিয়ে কলকাতা মেট্রোর জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার অনলাইন। তিনি বলেন, ‘‘প্রথা মেনেই মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

আর পরিষেবা নিয়ে যে কোনও অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা পদক্ষেপ করি। গণ পরিবহণ পরিষেবায় কিছু খামতি আছে। কিন্তু মানুষকে উন্নত পরিষেবা দেওয়ার ব্যাপারে সর্বদা সচেষ্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষ।’’

আরও পড়ুন ::

Back to top button