আন্তর্জাতিক

বয়স্ক সেনাকর্মীদের মনোরঞ্জনের জন্য নার্সিংহোমে আনা হল স্ট্রিপার!

রোগ-জর্জরিত প্রৌঢ়দের ‘মন ভালো রাখতে’ সামান্য আয়োজন! আনা হল লাস্যময়ী তরুণীকে। যৌবন পেরিয়ে যাওয়া রোগীদের ‘একটু উষ্ণতার’ ছোঁয়া দিতে নাচলেন তিনি। দেহ থেকে এক এক করে খসে পড়ল পোশাক! না, প্রাচ্যের কোনও বিলাশবহুল পানশালা নয়। এই ছবি তাইওয়ানের এক সরকারি নার্সিংহোমের। যা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপরাষ্ট্রে।

সরকারি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের এরকম আচরণ ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এমনকি তা বন্ধ করে দেওয়ার জন্যেও সরব হয়েছেন অনেকে। চাপের মুখে এই নিয়ে সাফাই দিয়েছে তাইওয়ানের ওই নার্সিংহোম।

তাইওয়ানের সরকার পরিচালিত ‘তাওউয়ান ভেটেরান হোম’। মূলত, প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্যেই এই নার্সিংহোম তৈরি করেছে তাইওয়ান সরকার। সম্প্রতি এখানেই রোগীদের ‘মনোরঞ্জনের’ জন্য স্ট্রিপার ভাড়া করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। সেই ভিডিওই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আরও পড়ুন :: ৬০ বছরের ‘স্পাইডার ম্যান’, জন্মদিনে ৪৮ তলায় উঠে তাক লাগিয়ে দিলেন

সেখানে দেখা গিয়েছে নার্সিংহোমের বারান্দায় সার দিয়ে হুইলচেয়ারে বসে রয়েছেন বয়স্ক রোগীরা। আর তাদের সামনে নেচে চলেছেন ওই তরুণী। নাচের তালে তালে একটু একটু করে নিজেকে অনাবৃত করেন তিনি। শুধু তাই নয়, একটা সময় একজন রোগীর গালে চুম্বন করতেও দেখা যায় ওই স্ট্রিপারকে। জীবনের শেষপ্রান্তে পৌঁছনো রোগশয্যায় থাকা প্রৌঢ় রোগীদের সেই দৃশ্য উপভোগ করতেও দেখা গিয়েছে ভিডিওতে। স্ট্রিপার তরুণীকে উৎসাহ দিতে সমানে হাততালি দিতে থাকেন তারা।

কিন্তু প্রৌঢ় রোগীদের জন্য এহেন আয়োজন করা সত্ত্বেও প্রশ্নের মুখে পড়েছে তাইওয়ানের সরকার পরিচালিত ওই নার্সিংহোম। গত কয়েক মাস ধরেই এই দ্বীপরাষ্ট্রকে লাল চোখ দেখিয়ে আসছে চীন। এমনকি বেজিং সামরিক অভিযান চালাতে পারে বলেও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় কীভাবে, কার অনুমতি নিয়ে প্রাক্তন সেনাকর্তাদের জন্য তৈরি ওই হোমে স্ট্রিপার আনা হল? সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন বহু তাইওয়ানবাসী।

চাপের মুখে পড়ে এই নিয়ে অবশ্য সাফাই দিয়েছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন, “মধ্য-শরতে গোটা দেশজুড়ে নানা উৎসব পালন করা হয়। কারণেই রোগীদের মন ভাল রাখতে নার্সিংহোমের মধ্যে স্ট্রিপার আনা হয়েছিল। এর জন্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।” কাউকে অসম্মান করা বা অপমান করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না বলেও জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি, এই ঘটনার জন্য ক্ষমাও চেয়েছে ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তবে বিষয়টি হালকাভাবে নেয়নি তাইওয়ান সরকার। এই ব্যাপারে কারোর গাফিলতি আছে কিনা, তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে তাইপে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

আরও পড়ুন ::

Back to top button