জাতীয়

জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৬টি সাবমেরিন বানাবে ভারত, শীঘ্রই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Submarine : জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৬টি সাবমেরিন বানাবে ভারত, শীঘ্রই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা - West Bengal News 24

ভারত এবার সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোরদার করতে জার্মানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগোচ্ছে। দীর্ঘ ছয় মাসের স্থবিরতার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও মাজাগন ডকইয়ার্ডস লিমিটেডকে (MDL) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জার্মানির সঙ্গে একযোগে সাবমেরিন তৈরির আলোচনায় বসার জন্য। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় উন্নত প্রযুক্তির ৬টি সাবমেরিন নির্মাণই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। প্রতিটি সাবমেরিনেই থাকবে আধুনিক এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (AIP) সিস্টেম। প্রকল্পটির আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, রাষ্ট্রায়ত্ত এমডিএলকে বেছে নেয় জার্মান সংস্থা থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই সাবমেরিন নির্মাণের জন্য। এরপর প্রায় সাত মাস এ বিষয়ে বিশেষ অগ্রগতি না হলেও সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে নির্দেশ এসেছে আলোচনায় এগোতে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে এক প্রতিরক্ষা আধিকারিক জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষেই আলোচনা শুরু হতে পারে। কেন্দ্র চায় দ্রুত নৌবাহিনীর সাবমেরিন বহর আধুনিকীকরণ করতে। এর জন্য ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী ছয় মাসে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারি সূত্রের খবর, প্রজেক্ট ৭৫-ইন্ডিয়া-র অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনী এই সাবমেরিনগুলো তৈরি করবে জার্মান সংস্থার সহযোগিতায়। বিশেষত্ব হলো, এগুলো একটানা প্রায় তিন সপ্তাহ পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম হবে। জার্মান AIP প্রযুক্তিই দেবে এই সুবিধা। পাশাপাশি, ভারত বর্তমানে আরও দুটি পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন নির্মাণ করছে, যেখানে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো ও সাবমেরিন বিল্ডিং সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিন দ্রুত নৌবাহিনীকে আধুনিক করছে এবং ভারত মহাসাগরে তার উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এর পাল্টা হিসেবে ভারতও সমুদ্র সীমান্তে নিজেদের শক্তি বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প সেই কৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আগামী দশ বছরে ভারতীয় নৌবাহিনী প্রায় দশটি পুরনো সাবমেরিন অবসরে পাঠাবে। একই সময়ে নতুন সাবমেরিন যুক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে। ফলে এই প্রকল্প কেবল ভারতের সমুদ্র প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করবে না, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকেও আরও মজবুত করবে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button