বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে চিনা তৎপরতা, ‘চিকেনস নেক’-এ বাড়ল নিরাপত্তা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ ‘শিলিগুড়ি করিডর’-এর একেবারে কাছে চিনা সমীক্ষা ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। সম্প্রতি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা ঘুরে দেখেন চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত তিস্তা প্রকল্প এলাকাতেই তাঁর এই সফর। এই অঞ্চলের পূর্ব দিকে সীমান্তের এপারে রয়েছে ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’। গোয়েন্দা সূত্রে এই খবর সামনে আসতেই কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে শীতলতার আবহে ঢাকার সঙ্গে বেজিংয়ের যোগাযোগ যে বাড়ছে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগ্রহে ‘শিলিগুড়ি করিডর’-এর অত্যন্ত কাছে তিস্তা নদী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এই প্রকল্প এলাকার ঠিক পূর্ব দিকেই ভারতের ‘চিকেনস নেক’। প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরই উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ। এতটাই স্পর্শকাতর এলাকায় চিনা তৎপরতা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, এই সফর তিস্তা নদী ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট’-এর অধীনে প্রযুক্তিগত সমীক্ষার অংশ। সূত্রের খবর, চিন দ্রুত তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদী। দীর্ঘদিন ধরেই তিস্তার জল বণ্টন নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। এর মধ্যেই বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে চিনের সক্রিয় ভূমিকা ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
গোয়েন্দাদের মতে, এই অঞ্চলে কোনও অস্থিরতা তৈরি হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় ৫ কোটি মানুষের নিরাপত্তা সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। ‘চিকেনস নেক’ এলাকা নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চিনের খুব কাছেই অবস্থিত। সম্প্রতি বাংলাদেশের লালমনিরহাটে পুরনো বিমানঘাঁটি পুনরায় চালু করার খবরও সামনে এসেছে, যেখানে চিনের প্রযুক্তিগত সহায়তার অনুমতি মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়াও বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত, বর্তমানে পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ বা বিমানঘাঁটিগুলি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতীয় বিমান বাহিনীর জরুরি অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। উত্তরবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায় মোট সাতটি পুরনো বিমানঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি উত্তরবঙ্গে। এর মধ্যে কোচবিহার ও আসামের রূপসী বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন ডিজাইনের নিরাপত্তা বেড়া দিয়ে ভারতের প্রায় ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেরা হয়েছে। আধুনিক এই বেড়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা ও উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। সীমান্ত এলাকায় সামান্য নড়াচড়াও এখন সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর নজর এড়াবে না। আত্মরক্ষার ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে এস ৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে কেনা সারফেস টু এয়ার মিসাইলও সীমান্তে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।



