নিউটাউনের অভিজাত মলে স্পা-র আড়ালে দেহ ব্যবসা! বকশিশ নাকি অন্য কিছু? খদ্দের-মালিকের রক্তক্ষয়ী মারামারিতে ফাঁস পর্দা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজারহাট-নিউটাউনের নামী শপিং মলে রূপটান আর রিল্যাক্সেশনের আড়ালে চলছিল রমরমিয়ে যৌন ব্যবসা! কিন্তু বুধবার রাতের একটি তুমুল অশান্তি ও মারামারি ওলটপালট করে দিল সবটা। সর্ষের মধ্যেই যে লুকিয়ে ছিল ভূত, তা টের পেল টেকনোসিটি থানার পুলিশ। খদ্দেরের সঙ্গে পার্লারের মালিকের বচসা, তারপর হাতাহাতি ও গুন্ডামি— সব মিলিয়ে রণক্ষেত্রের রূপ নিল নিউটাউনের এক অভিজাত মল। কী ঘটেছিল সেই রাতে? কেনই বা খদ্দেরদের সঙ্গে বিবাদে জড়ালেন মালিক? জানুন আসল সত্যি।
নিউটাউনের ডাউনটাউন শপিং মলে অবস্থিত ‘নাইট কুইন’ (Night Queen) নামক একটি স্পা ও মাসাজ পার্লার। যার মালিক কলিমুদ্দিন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে একদল যুবক মদ্যপ অবস্থায় ওই পার্লারে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পার্লারের ভেতরে শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি। বচসা এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং মারধর শুরু হয়ে যায়। রীতিমতো গুন্ডামির পরিবেশ তৈরি হয় মলের ভেতরে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই স্পা পার্লারে শুধু মাসাজ হতো না, তার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল অবৈধ দেহ ব্যবসা। মহিলাদের দিয়ে জোর করে এই কাজ করানো হতো বলে অভিযোগ। বুধবার রাতে যে যুবকরা এসেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে টাকার লেনদেন এবং সার্ভিস নিয়ে চরম বিবাদ বাঁধে। অন্যদিকে, পার্লার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মদ্যপ যুবকরা ভেতরে ঢুকে পার্লারের মহিলা কর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁদের মারধর করে। ইতিমধ্যেই এই মারামারির একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের পোর্টাল)।
মলের ভেতর এই ধুন্ধুমার কাণ্ডের খবর পৌঁছায় পুলিশ প্রশাসনের কাছে। তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় টেকনোসিটি থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর দুই পক্ষের মোট ৫ জনকে আটক করে। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর মূল অভিযুক্ত সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর বিস্ফোরক দাবি: “এখানে দিনের পর দিন ধরে নোংরামি চলছিল। ভদ্র ঘরের ছেলেমেয়েদের এই মলে আসা দায় হয়ে উঠেছিল। মাসাজের নামে কী হতো তা সবাই জানত, আজ হাতাহাতি হওয়াতেই সত্যিটা সামনে এল।”
এই ঘটনার পর নিউটাউনের অন্যান্য স্পা এবং মাসাজ পার্লারগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়াচ্ছে পুলিশ। ‘নাইট কুইন’-এর আড়ালে কোনও বড়সড় সেক্স র্যাকেট কাজ করছিল কিনা, এবং এর পেছনে আর কার কার হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের মূল শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে টেকনোসিটি থানার পুলিশ।
নিউটাউনের মতো আইটি হাবের বুকে এমন ঘটনায় স্বভাবতই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষ ও আইটি কর্মীদের মধ্যে।



