ইসকন থেকে আচমকা ছাঁটাই রাধারমণ দাস! ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে মানেকা গান্ধী, কোন ৬ ‘ভুলে’ মিলল চরম শাস্তি?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাতারাতি বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল মায়াপুর তথা কলকাতা ইসকন (ISKCON) কর্তৃপক্ষ। সব রকম পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো কলকাতা ইসকনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ তথা সহ-সভাপতি রাধারমণ দাসকে (Radharamn Das)। শনিবার রাতে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে সনাতন অনুগামীদের মধ্যে। বর্তমানে ইসকনের সঙ্গে আর কোনো সরাসরি যোগ নেই তাঁর। কিন্তু কেন এই চরম পদক্ষেপ? নেপথ্যে কি কোনো রাজনৈতিক চাপ নাকি মুখ খোলার ‘শাস্তি’? নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বিস্ফোরক ৬টি কারণ ফাঁস করলেন স্বয়ং রাধারমণ দাস।
রাধারমণ দাসের পদচ্যুতির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে বিজেপি সাংসদ মানেকা গান্ধীর (Maneka Gandhi) সঙ্গে তাঁর আইনি লড়াই। গত ২০২৩ সালে ইসকনের বিরুদ্ধে গোরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছিলেন মানেকা। ইসকনকে ‘দেশের সবচেয়ে বড় প্রতারক’ বলেও তোপ দাগেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী ভক্তদের ভাবাবেগে আঘাত লাগায় ইসকনের তরফ থেকে মানেকা গান্ধীকে ১০০ কোটি টাকার মানহানির নোটিশ পাঠিয়েছিলেন রাধারমণ দাস। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এই নির্ভীক পদক্ষেপই হয়তো তাঁর পদ হারানোর অন্যতম বড় কারণ।
সাম্প্রতিক সময়ে ওপার বাংলায় হিন্দুদের ওপর হওয়া নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার সুর চড়িয়েছিলেন রাধারমণ দাস। আন্তর্জাতিক স্তরে এই নিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ইসকনের মতো একটি আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর এই কট্টর অবস্থানকে কর্তৃপক্ষ ভালোভাবে নেয়নি বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সম্প্রতি ২০২৪ সালে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ওপর হওয়া প্রাণঘাতী হামলার পর একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিলেন রাধারমণ দাস। তিনি দাবি করেন:
“১৯৭৬ সালে নিউ ইয়র্কে প্রথমবার যখন জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল, তখন তার বিশেষ উদ্যোক্তা ও সাহায্যকারী ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই জগন্নাথের কৃপাতেই ২০২৪ সালে ট্রাম্পের প্রাণরক্ষা হয়েছে।”
তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে চরম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যা ইসকন বিরোধী আচরণ হিসেবেই গণ্য করেছে মায়াপুর কর্তৃপক্ষ।
📺 কৌতুকশিল্পী বিতর্ক থেকে টিভি সাক্ষাৎকার: ক্ষুব্ধ কর্তৃপক্ষ?
এখানেই শেষ নয়, এক্স হ্যান্ডেলে রাধারমণ বাবু আরও কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন:
সুরলিন কৌর বিতর্ক: কৌতুকশিল্পী সুরলিন কৌরের সনাতন ধর্ম নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।
কট্টরপন্থী সনাতনী তত্ত্ব: কট্টরপন্থী সনাতনীদের নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলা।
সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকার: গত ২৯ মে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তাঁর একটি সাক্ষাৎকার পুরোপুরি ‘ইসকন বিরোধী’ আচরণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
হঠাৎ পদ খোয়ালেও ইসকন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে নিয়েছেন রাধারমণ দাস। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। এবার থেকে ইসকনের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে তিনি আর কোনো প্রতিক্রিয়া দেবেন না। তবে পদ না থাকলেও মন থেকে ইসকনের সার্বিক উন্নতি এবং সাফল্যই কামনা করেছেন তিনি।
এখন দেখার, রাধারমণ দাসের এই আচমকা অপসারণের পর কলকাতা ইসকনের পরবর্তী সাংগঠনিক সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে।



