জাতীয়

চুরি মামলায় এবার তদন্তের নজরে ব্যাঙ্ক! রাম মন্দির কাণ্ডে রহস্য আরও ঘনীভূত

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

চুরি মামলায় এবার তদন্তের নজরে ব্যাঙ্ক! রাম মন্দির কাণ্ডে রহস্য আরও ঘনীভূত - West Bengal News 24

রাম মন্দিরে চুরির অভিযোগ ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এবার তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ব্যাঙ্কও। মন্দির ট্রাস্টের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনওভাবে অর্থ অন্যত্র সরানো হয়েছে কি না, কিংবা দানের টাকা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাইফন করা হয়েছে কি না, সেই দিকেই এখন নজর উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর।

সূত্রের খবর, রাম মন্দির ট্রাস্টের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের খুঁটিনাটি জানতে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার অযোধ্যা শাখাকে নোটিস পাঠিয়েছে সিট। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মন্দিরে অনলাইনের মাধ্যমে পাওয়া সমস্ত অনুদান এবং দানের অর্থ ব্যাঙ্ক অফ বরোদার ওই অ্যাকাউন্টেই জমা হতো। নথি অনুযায়ী, সাধারণ দিনে ওই অ্যাকাউন্টে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকা জমা পড়ত। বিশেষ উপলক্ষে সেই অঙ্ক বেড়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকায় পৌঁছত। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ওই শাখার অ্যাকাউন্টে মোট ৩২৭ কোটি টাকা জমা পড়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি এসেছে সুদ বাবদ।

আরও পড়ুন :: ‘তদন্তে কী লাগবে কোর্ট বলবে না!’ কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে অভিষেককে, খারিজ হাই কোর্টের আর্জি!

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ব্যাঙ্কের এই শাখাতেই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত এবং মন্দিরের অনুদানের হিসাব-নিকাশের দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাইও। তাঁর অ্যাকাউন্টটি আগে দিল্লিতে থাকলেও পরে অযোধ্যা শাখায় স্থানান্তর করা হয়। যদিও ওই অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়নি। তবে চম্পত রাইয়ের চালক, যিনি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অফ বরোদার অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

রাম মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিটের রিপোর্টে উঠে এসেছে, মন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না৷ নগদ টাকা এবং গয়নার পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও। তদন্ত চলাকালীন আরও জানা গিয়েছে, ট্রাস্টের একাধিক শীর্ষকর্তা জানতেন মন্দিরের অনুদান চুরির বিষয়টি। কিন্তু পুলিশে কেন অভিযোগ দায়ের হল না? তাহলে কি চুরির ঘটনা আড়াল করতে চাইছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ? কার স্বার্থে বা কাকে বাঁচাতে অভিযোগ দায়ের হয়নি? সূত্রের খবর, অনুদান গোনার কর্মীদের বদলাতে চেয়েছিল ব্যাঙ্ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এখানেই প্রশ্ন রাঘব বোয়ালরা আড়ালে থেকে যাচ্ছেন না তো? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন ::

Back to top button