
ঈশ্বরের আপন দেশ হিসেবে পরিচিত কেরলে বেনজির তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। টানা লকডাউন জারি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ হাজার ৬৭৩ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ১২৪ জন।
করোনার সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙতে তাই ফের এক সপ্তাহের জন্য রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত রাজ্যে লকডাউন চলবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন তিনি। তবে তিন জেলা তিরুঅনন্তপুরম, ত্রিশূর ও এনার্কুলামে ট্রিপল লকডাউন প্রত্যাহার করা হচ্ছে। শুধু মালাপ্পুরমে ট্রিপল লকডাউন চলবে।
রাজ্যের বিধানসভা ভোট মিটে যাওয়ার পরেই কার্যত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সুনামি আছড়ে পড়েছে কেরলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৫ মে থেকে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন জারির পথে হেঁটেছে পিনরাই বিজয়নের সরকার। কিন্তু তাতে তেমন সুফল মেলেনি। বরং দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়িয়ে চলছে। বাধ্য হয়েই বেলাগাম হয়ে ওঠা মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙতে আরও এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন জানিয়েছেন, ‘গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে আরও ২৯ হাজার ৬৮৭৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯১৯ জনে। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ১২৪ জনের।
এ নিয়ে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত করোনার বলি হলেন ৬ হাজার ৯৯৪ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ১৮ শতাংশে। রাজ্যে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৬ হাজার ৩৪৬ জনে। শনাক্তের হার না কমায় ফের ৩০ মে পর্যন্ত রাজ্যে লকডাউন জারি থাকছে।’
তবে তিরুঅনন্তপুরম, ত্রিশূর ও এনার্কুলামে সংক্রমণ ও সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় আগামিকাল থেকেই সেখানে ট্রিপল লকডাউন তুলে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী। তবে মালাপ্পুরমে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সেখানে ট্রিপল লকডাউন চলবে বলে জানিয়েছেন পিনরাই বিজয়ন।
সুত্র :এই মুহুর্তে



